জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও বলিষ্ঠ বক্তব্যের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সামান্তা শারমিনের দলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দলটির পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তার পদাবনতি হয়েছে। আগে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে।
সামান্তার মতো উদীয়মান এক নেত্রীর পদাবনতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে মতামত দিচ্ছেন দলটির সাধারণ নেতাকর্মীরা। তবে তার পদাবনতি নিয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে দুটি ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।
দলটির একাধিক সূত্রের ভাষ্য, ব্যক্তিগত কারণে সামান্তা নিজেই কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত। এ কারণে গত কয়েক মাস ধরে তিনি দলকে তেমন সময় দিতে পারছিলেন না। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন সামান্তা।
সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন সামান্তা। এ কারণে তার দায়িত্ব কমানো হয়েছে।
তবে আরেকটি সূত্রের দাবি, আদর্শিক কারণেও দলের সঙ্গে সামান্তার কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক শিথিল হতে থাকে। এরপর অনেক কর্মসূচি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। মতাদর্শগত কারণেও তাকে কোণঠাসা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
এসব কারণেই সামান্তার পদাবনতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দলটির একাধিক নেতার মতে, সামান্তার বিষয়ে এনসিপি সব সময়ই ইতিবাচক। ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলেও তারা আশাবাদী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের বেশ কিছু সহযোদ্ধা অন্যদিকে চলে গেছেন। তবে তাদের সবার প্রতিই আমাদের ভালোবাসা আগের মতোই আছে। আর সামান্তা শারমিন তো এখনও দলেই আছেন। তাই তার বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন।’
সামান্তার নিষ্ক্রিয়তার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, তিনি দীর্ঘদিন তার অসুস্থ স্বামীকে সময় দিয়েছেন। তাই দলে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন।’
আদর্শিক কারণে সামান্তা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে আতিক মুজাহিদ বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে সামান্তা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও সামান্তা শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।