ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: বামে অমিল

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার দুই সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীসহ নেতারাঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকারবিরোধী বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। এরমধ্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রাথমিকভাবে দু’জন নেতাকে বাছাই করলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় নেবে দলটি। তবে, জোটের বাকি সাতটি দলের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েই ভিন্নমত রয়েছে। বাম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সিপিবির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, সংগঠনের ঢাকা জেলা কমিটি ডিএনসিসিতে ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও ডিএসসিসিতে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মানবেন্দ্র দেবনাথকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে। ইতোমধ্যে খসড়া প্রস্তুতি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ঢাকা মহানগর কমিটি দু’জনকে প্রার্থী করে একটি খসড়া তালিকা জমা দিয়েছে, আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি। বামজোটের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম একজন উদ্যোক্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইতোমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জোটের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, বৈঠক দু’টিতে অগ্রগতি হয়নি। সিপিবি-বাসদের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা (ফাইল ছবি)রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘সিপিবিতে সাধারণ আলোচনা আছে নির্বাচনে যাওয়ার। আমরা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কয়েকটি দাবি করেছি, যেসব দাবি মানা না হলে নির্বাচন করবো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চার-পাঁচটি দাবি রয়েছে। আমরা সমতাভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চাই।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল লিখিত বক্তব্যে দাবিগুলো পড়ে শোনান। দাবিগুলো হচ্ছে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নির্বাচনে টাকার খেলা, প্রশাসনিক কারসাজি বন্ধ, জামানাতের টাকা মেয়র প্রার্থীদের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ ও প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক সিডি ক্রয় বাতিল এবং ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রথম সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘বামজোট এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচনে যাবে কিনা। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের আস্থা নেই। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মধ্যরাতে করে ফেলার পর এই কমিশন কী ভোট দেবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।’

বামজোটের একনেতা বলেন, ‘বামরা জোটগতভাবে নির্বাচনে নাও যেতে পারি। সে আশঙ্কাই দিনে-দিনে প্রকট হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) এই আট দল মিলে গঠিত হয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের প্রথম সমন্বয়ক করা হয় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে।

জোনাইদ সাকি (ফাইল ছবি)

প্রার্থী হচ্ছেন না সাকি?

এদিকে, ২০১৫ সালে ডিএনসিসি নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রার্থিতা করলেও আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা কম। সাংগঠনিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার অভাব থেকেই সাকি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে জোনায়েদ সাকিকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সংগঠনের নেতা, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি সৈকত মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোনায়েদ সাকি নির্বাচন করবেন কিনা, সাংগঠনিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। সেক্ষেত্রে এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। একইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনও লক্ষণ দেশে নেই।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর জোটের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক হবে। সে বৈঠকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।