ফেলানী হত্যার প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনের রাস্তা ফেলানীর নামে নামকরণের দাবি জায়িছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ভারতে পাঠানোর সুপারিশ করেন।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে ‘সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলি থামবে কবে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান। সভাটির আয়োজন করে আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটি।
জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারতের সীমান্ত হত্যা প্রতিহত করতে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশেনের মেয়র আতিকুল ইসলামের উচিত হবে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনের রাস্তাটির নাম ফেলানী রোড করে দেওয়া। তাহলে তাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেওয়া হবে– তোমরা অন্যায় কাজ করছো। আমরা এ অন্যায়ের প্রতিকার চাই।’
ভারতের সীমান্ত রক্ষা আমাদের দায়িত্ব না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যতদিন ভারতের কুকর্ম বন্ধ না হয়, তাদের সব ধরনের ট্রানজিট বন্ধ করে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে আরও উচিত হবে, আমাদের দেশে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদরে মধ্যে যারা ভারত যেতে চায় তাদের সহযোগিতা করা। কারণ ভারতের সীমান্ত রক্ষা আমাদের দায়িত্ব না। ভারতই এই রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি করেছে।’
সরকার একজন আমলাকে রাষ্ট্রপতি বানানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে ড. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সরকার মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। অনেকে বলতে পারেন, এর প্রমাণ কি? প্রমাণ খুব সোজা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘদিন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমলাকে যদি রাষ্ট্রপতি বানানো হয়, তাহলে তিনি সহজে টেলিফোনের মাধ্যমে ডিসি সাহেব থেকে শুরু করে ওসি সাহেব পর্যন্ত সহজে যোগাযোগ করতে পারবে।’
আগামী নির্বাচনে সরকারকে প্রতিহত করতে বিরোধী দলগুলোকে লক্ষাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে গণস্বাস্থ্যের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘বিরোধীদলগুলো বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। এটাকে প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। লক্ষাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দিয়ে এদের ট্রেনিং দিতে হবে, যাতে সারা রাত তারা ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দিতে পারে। যাতে করে সরকার কোনও ধরনের চক্রান্ত কার্যকর না করতে পারে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান হায়দার।