আবারও এমপি হবো কোনও ভুল নাই: সংসদে নজিবুল বশর

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হবেন বলে জাতীয় সংসদকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আজকের প্রধানমন্ত্রী যেমন আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন, আমিও তরিকত ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমপি হবো, এই ব্যাপারে কোনও ভুল নাই।’

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই নির্বাচনে বিএনপি আসুক আর না আসুক, কিচ্ছু আসে যায় না। ১৪ দলীয় জোটনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন হবে।’ ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের উন্নয়নে দরকার ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উল্লেখ করে নজিবুল বশর বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে—তখন বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের যোগসাজশে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা যত ষড়যন্ত্র করুক, নির্বাচন করুক আর না করুক, সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।’

নজিবুল বশর বলেন, ‘আমার কাছে যতটুকু খবর আছে, আগামী আগস্ট মাস থেকে তারা (বিএনপি ও জামায়াত) আবার খুনোখুনি শুরু করবে। তাদের ষড়যন্ত্র সেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশটাকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে চান। খুনোখুনি, রাহাজানি, জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি করবে। এই ব্যাপারে সরকারকে সচেতন থাকার জন্য বলছি।’

খাগড়াছড়ির সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কিছুই হয়েছে। তারপরও অনেক কিছুর অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের সব জায়গায় বিদ্যুৎ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও হয়েছে। আমরা যেটা আশা করি নাই সেখানেও হয়েছে। তবে জনসংখ্যা ও পরিবারভিত্তিক যদি ধরি, তাহলে আমাদের বিদ্যুতের অনেক ঘাটতি রয়েছে। আরও প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের ৬৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ছিল, তা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।’

খাগড়াছড়ির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুতায়ন হয়েছে জানিয়ে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ২১৭ কোটি টাকার সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এলাকাকে আলোকিত করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ যাওয়া সম্ভব, সেখানে বিদ্যুৎ যাওয়া প্রয়োজন।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেছেন, আগে শোনা যেত কানাডায় বেগমপাড়া। এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই বেগমপাড়া হচ্ছে। শুধু রাজনীতিবিদ নয়, সরকারি কর্মকর্তারাও বিদেশে বাড়ি কিনছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে টাকা যাচ্ছে সুইস ব্যাংকে। কানাডা, দুবাইয়ে অনেকে ১০-২০টা বাড়ি কিনছে। দেশ থেকে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে নজরদারি করে, সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা। প্রকৃত হিসাব করলে এটি চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এক ব্যাংকের মালিক আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অল্প কিছু মানুষের কাছে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে।’

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সবাই উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু কিছু নেতা উন্নয়ন দেখেন না। তারা মাঝে মধ্যে এলাকায় যান। তারা আওয়ামী লীগের নেতা, ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে চান।’

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনা করে পীর ফজলু বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে। এর সঙ্গে দুর্নীতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।’