দেশের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা’ ঘোষণা করে সেসব প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু এই ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল’ প্রত্যাহার করে ধর্মঘট করার সুযোগ চায় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সোমবার (১ মে) সকালে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিলে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর আহ্বানে শ্রমিক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, শাহ মো. আবু জাফর, সাইফুজ্জামান বাদশা, রাজেকুজ্জামান রতন, চৌধুরী আশিকুল আলম, কামরুল আহসান, শামিম আরা, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাদল খান, নইমুল আহসান জুয়েল, রিপন চৌধুরী, আমিরুল হক আমিন, ফিরোজ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, নুরুল আমিন, মাহবুবুল আলম, আজিজুন নাহার, আব্দুর রাজ্জাক, খলিলুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে ৮ ঘণ্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সভায় ঘোষণাপত্র পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদার, সভা পরিচালনা করেন আহসান হাবিব বুলবুল।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়— শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ উপায় হিসেবে ধর্মঘট করার অধিকারও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইনের খড়গের নিচে আটকে রাখার চেষ্টা চলছে। ইপিজেড, ইসিজেডসহ নতুন গড়ে ওঠা শিল্প কারখানায় আইনি বাধা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠছে না। ফলে শ্রমিকরা সংখ্যায় বাড়লেও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহার করতে হবে। ধর্মঘটের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা চলবে না। প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং মালিকানা নির্বিশেষে ইপিজেড, ইসিজেডসহ সব সেক্টরের শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। আইন করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রবর্তন করতে হবে।
স্কপ ৯ দফা দাবিতে ২টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সারা দেশে সংসদে উত্থাপিত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। ২৭ মে সব সেক্টরের শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে।