গণতন্ত্রী পার্টির সব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলটির অনুমোদিত কোনও কমিটির অস্তিত্ব না থাকায় ওই পার্টির মনোনয়নে দাখিলকৃত সব মনোনয়নপত্র বাতিল করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইসির উপসচিব মাহবুব আলম শাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পৃথকভাবে দাখিল করা কমিটি কমিশন না-মঞ্জুর করছে। সুতরাং গণতন্ত্রী পার্টির রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত কোনও কমিটি বিদ্যমান নেই।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণতন্ত্রী পার্টির কোনও পদধারীর মাধ্যমে দাখিল করা প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৪ দলীয় জোটের শরিক গণতন্ত্রী পার্টি বর্তমানে দুইভাগে বিভক্ত। দলটির দুটি গ্রুপ ইসিতে পৃথক কমিটি জমা দিয়েছে। নির্বাচনে দুটি গ্রুপের ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এদের প্রায় সবারই প্রার্থিতা বৈধ হয়। তবে প্রার্থী বৈধতা ঘোষণার সময় রিটার্নিং অফিসাররা জানান, তাদের বিষয় ইসি থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। এদিকে রিটার্নিং অফিসারের বাছাইয়ে অবৈধ হওয়া মনোনয়ন সিইসির নেতৃত্বাধীন ফুল কমিশনের আপিল শুনানিতে বৈধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ১৪ দলের অন্যান্য শরিকের মতো গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে বলে ইসিতে সম্মতি দিয়েছে জোট প্রধান আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণতন্ত্রী পার্টির একাংশের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণার পরও কেন সবাইকে একসঙ্গে বাদ দেওয়া হলো বুঝতে পারলাম না। আমরা তো আপিল শুনানিতে অংশ নিয়েও প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছি। আমাদের দুই অংশের প্রার্থীদের তো ডুপলিকেশনও ছিল না। তারা দলে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলেও জানান শাহাদাত হোসেন।
উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আগের কমিটির সভাপতি আরশ আলী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বিভক্ত হয়ে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছেন গণতন্ত্রী পার্টির। আরশ আলী তার কমিটির সভাপতি করেছেন দোলন ভৌমিককে। অপরদিকে শাহাদাত হোসেন সভাপতি হয়ে তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক করেছেন প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে। দুই পক্ষই ইসির কাছে নিজেদের স্বীকৃতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে।
তবে ইসি তাদের কাউকেই গ্রহণ করেনি। এর আগে নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে মতবিনিময় করে, কমিটি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে গণতন্ত্রী পার্টিকে ডাকেনি।