দেশ, ইসলাম ও মানবতা ধ্বংসের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ‘দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ডামি সরকারের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। সরকার ভারতের প্রেসক্রিপশনে জনগণের বাক-স্বাধীনতা হরণ করে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকার জালিম শাহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে থানা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সংগঠিত দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিল এবং চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে শুক্রবার (২৮ জুন) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ৩ জুলাই চলমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সংলাপ এবং ৫ জুলাই সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন।
মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক ঐক্যবদ্ধ ছোট শক্তির কাছেও বড় ও পরাশক্তির পরাজয় হয়েছে। এ জন্য দেশপ্রেমিক জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে ভারত ও আমেরিকার মতো পরাশক্তিও টিকবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে ইউরোপের মধ্যে ‘‘ফ্রি যাতায়াতের’’ উদাহরণ দিয়েছেন, সেটা কোনোভাবেই ভারত-বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেখানে যাতায়াত হয় সমমর্যাদার দুটি দেশের মধ্যে; সেখানে এক দেশ আরেক দেশকে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখে না। এক দেশের বাহিনী সেই কাঁটাতার পেরিয়ে এসে আরেক দেশের নাগরিকদের গুলি করে মারেও না।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘নয়াদিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কী ধরনের বোঝাপড়া, সম্মতি বা চুক্তি করেছেন, সেগুলো প্রকাশ করতে হবে। দেশের সংবিধান অনুসারে অন্য দেশের সঙ্গে এ ধরনের কোনও চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক করতে হলে তা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করা জরুরি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, জনগণকে আড়ালে রেখেই এ ধরনের চুক্তিগুলো করা হয়। জাতিকে অন্ধকারে রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও চুক্তি জনগণ মানবে না।’
তিনি সরকারের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ইউরোপে কোনও সীমানা নেই। একথা দেশকে গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ করার অশুভ ইঙ্গিত। ভারত আমাদের সবকিছু দিয়ে দিয়েছে, অথচ নেপালের জন্য আমাদের মাত্র ১৮ কিলোমিটার ট্রানজিট দিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বার্থে পদ্মা সেতু করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভারতের শুধু দালাল নয়, ভারতেরই সরকার। ভারতের স্বার্থে যা ইচ্ছা তাই করছে। সেন্টমার্টিন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতপ্রেমী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন– মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, নূরুল হুদা ফয়েজী প্রমুখ।