বন্যায় মারা যাওয়া, কিংবা নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া দুখী মানুষদের ব্যাপারে সরকার উদাসীন বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘৪০ লাখ পানিবন্দি ও নদী ভাঙনকবলিত হাজার হাজার মানুষের জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে সরকার মনে করছে অনেক বড় সাহায্য করে ফেলেছে। অথচ দেশে ৫ লাখ শিশুকে সাঁতার শেখানোর জন্য ২৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, সুন্দরবনের পশু গণনার জন্য ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, ২০টি সিনেমা তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়!’
সোমবার (৮ জুলাই) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে পার্টির আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আমার বাংলাদেশ পার্টির অভিযোগ, বন্যা ও নদীভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, বন্যায় যারা বারবার ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে, তারা সবাই রাষ্ট্রের কাঠামোগত নির্যাতন ও খুনের শিকার।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, সিলেট অঞ্চলসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নদীভাঙনসহ জনগণের নানামুখী দুর্ভোগ, উদ্বেগ ও সংকট নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেছে এবি পার্টি।
মূল বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই মার্চ-এপ্রিল মাসে ভারতের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে সিলেট অঞ্চলের হাওরসহ প্রতিটি জনপদ। অন্যদিকে সারা বছর পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা অববাহিকার সব পানি নানা খাল দিয়ে প্রত্যাহার করে নিলেও ভারত অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার সময় সব বাঁধের গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে প্লাবিত করে আসছে বছরের পর বছর। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে। কিন্তু এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আগে দেখা যায়নি।’