বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে মূলত হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।'
শনিবার (৩১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক।
বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ সাতটি দল।
আন্তরিক পরিবেশে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে জানিয়ে খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, ক্রান্তিকালে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এ সময় প্রতিটি দল যার যার পক্ষ থেকে সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচন কমিশনসহ বৈষম্যমূলক দলীয় ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন করে নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছি।
সব শ্রেণির ভোটাধিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে ভোটের দাবি তুলে মামুনুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সব বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছি। বর্তমান ব্যবস্থায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব থাকে। বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার যে আয়োজন, সেখানে যেন ভারসাম্য তৈরি করা হয়।
আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের যে ধারা সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছে, তার পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন মামুনুল।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নিয়ে তিনি বলেন, দুবারের বেশি যেন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেছি। হেফাজতের আন্দোলনে শহীদ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছি। ইসলামবিরোধী আইন যাতে না হয়, তা বলেছি। তিন শতাধিক মামলা অতিদ্রুত নির্বাহী আদেশ বা আইনি প্রক্রিয়ায় এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।
তিনি বলেন, ড. মুহাম্মাদ ইউনূস সব দলের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শুনেছেন। আমরা আগামী দিনে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা আহ্বান জানিয়েছি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, যৌক্তিক সময় নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ করবে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে অযথা কালবিলম্ব না করে যেন নির্বাচনের আয়োজন করেন, সে বিষয় বলেছি। তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তারাও নির্বাচনের দিকে যেতে আগ্রহী।
যৌক্তিক সময় কত দিন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যৌক্তিক সময় কত দিনের, এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনও সময়সীমা দেওয়া হয়নি। মানে সুনির্দিষ্ট মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়নি।