অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন-বিভক্তিতে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্বেগ

ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন, বিভক্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁক বদলের এই সন্ধিক্ষণে জনআকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা জানায় গণতন্ত্র মঞ্চ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম।

নেতারা বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে। সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসনের অবসানের পর দেশের জনগণ নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের যে সংস্কারের দাবি উঠেছে তা বাস্তবায়নে অভ্যুত্থানের সব পক্ষ, সব অংশীজনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বিকল্প নেই।’

‘কিন্তু সফল অভ্যুত্থানের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নানা বিভাজন, বিভক্তির চর্চা শুরু হয়েছে। কোনও কোনও ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। বিদ্বেষমূলক, হিংসাত্মক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

তারা বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। মাজার, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিভিন্নভাবে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কোনও কোনও পক্ষ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিজদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের দাবি করে জনগণের ঐক্যের ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করছে।’ 

নেতারা আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ক্রিয়াশীল সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। যারা ঐক্য বিনষ্ট করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, অসহিষ্ণু, হিংসাত্মক এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এই দায়িত্ব নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে।’

মঞ্চের নেতারা বলেন, ‘সরকারকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রমঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’