ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের দাবি ইউনুস আহমাদের

বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে শুধু বিচার নয় বরং ৯০ দিনের মধ্যে রায়ের বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, আমাদের বিচার ব্যবস্থায় নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত, আপিল বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। ফলে গতকাল (রবিবার) আইন উপদেষ্টা যা বলেছেন তা অস্পষ্ট।

সোমবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,  ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হবে এর অর্থ কী? ৯০ দিনের মধ্যে নিন্ম আদালত রায় দিলে সেই রায় উচ্চ আদালত, আপিল বিভাগ হয়ে কার্যকর হতে হতে বছরের পর বছর পেড়িয়ে যাবে। আর যদি সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে তার বাস্তবায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়।
 
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, এখানে তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক মামলার ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তদন্তের দুর্বলতা ও প্রতিবেদনের ভাষার মারপ্যাচে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় আপিল বিভাগে আর বহাল থাকে না। এর সঙ্গে ধর্ষকের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপ তো থাকেই। যার ফলে ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে এমন নজীর কম। এ কারণেই ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলছে।

ইউনুস আহমাদ বলেন, ইসলামী বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণের জন্য দ্রুত, প্রকাশ্য ও কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। সেটা প্রয়োগ করা গেলে সমাজে ধর্ষণের ব্যাপারে ভয় তৈরি হতো, হাজারো নিরপরাধ শিশু ও নারী রক্ষা পেতো।

বিচার ব্যবস্থায় এমন হাজারো নজীর রয়েছে যেখানে ধর্ষক একটা সময় পরে জামিন পেয়ে নির্যাতিতের সামনে স্বদর্পে বিচরণ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে ধর্ষণের অপরাধকে হালকা করে ফেলেছে। তাই এই ক্ষেত্রে আইনগত ফাঁকফোঁকর রাখার কোনও সুযোগ নাই। আইনের যে ধারা ধর্ষককে সুবিধা দেয় তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ধর্ষকের বিচার দ্রুত, কঠোর ও প্রকাশ্য করতে যা যা করনীয় তাই করতে হবে। অন্যথায় ধর্ষকের পক্ষে আইন তৈরির অপরাধে ইতিহাস আমাদের দায়ী করবে।