গঠনতন্ত্র বিষয়ে আট দফা সিদ্ধান্ত নিলো এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ৬ষ্ঠ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্রসংক্রান্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুক্রবার (২০ জুন) বিকালে দলীয় সাধারণ সভা শেষে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন সরাসরি জাতীয় কাউন্সিলরদের ভোটে। একজন সদস্য জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দুবার সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বোচ্চ দুবার সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই থাকবেন ‘রাজনৈতিক পরিষদ’-এর কাছে জবাবদিহির আওতায়।

দলে একটি ‘রাজনৈতিক পরিষদ’ গঠিত হবে, যা জাতীয় কাউন্সিলের ভোটে নির্বাচিত হবে। এই পরিষদে সদস্য সংখ্যা হবে কমপক্ষে ১১ জন ও সর্বোচ্চ ১৫ জন। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ন্যূনতম তিনজন নারী সদস্য থাকতে হবে। দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকারবলে এ পরিষদের সদস্য থাকবেন। বাকি দুইজন সদস্য হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মনোনীত।

এছাড়া এনসিপির একটি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল’ থাকবে, যা রাজনৈতিক পরিষদ নির্বাচন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনসহ জরুরি পরিস্থিতিতে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এই কাউন্সিল গঠিত হবে—কেন্দ্রীয় কমিটি, অঙ্গসংগঠনের নির্বাহী কমিটি, জেলা পর্যায়ের কমিটি থেকে পাঁচজন এবং উপজেলা পর্যায়ের কমিটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে।

দলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি থাকবে, যার মধ্যে থাকবে—সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাধারণ সদস্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে জেলা সভাপতি। এই কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী কাউন্সিল আয়োজন করতে হবে।

এদিন দলের নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। নিবন্ধন সংক্রান্ত সব যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম-সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসাকে।

সভায় আরও জানানো হয়, গৃহীত খসড়া গঠনতন্ত্র পরবর্তী কাউন্সিলের পূর্বে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষমতা থাকবে বর্তমান প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির হাতে।