উচ্চকক্ষের ধারণাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা করছে কিছু দল: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উচ্চকক্ষের ধারণাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা চাই কার্যকর উচ্চকক্ষ থাকতে হবে, এবং সেখানে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফায় ১৩তম দিনের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু প্রস্তাবে উচ্চকক্ষকে দুর্বল করে তোলার প্রবণতা আছে। নিম্নকক্ষের রেপ্লিকা হলে উচ্চকক্ষ কোনও আলাদা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স তৈরি করতে পারবে না। আমরা চাই, এমন একটি উচ্চকক্ষ যেখানে এমনকি এক শতাংশ ভোট পাওয়া দলও প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

তিনি বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে এটি কীভাবে গঠন হবে সে বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে পিআর পদ্ধতির পক্ষেই এনসিপির অবস্থান। জেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক আসন বিভাজনের প্রস্তাব নাকচ করেছে দলটি।

আখতার বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা থাকা উচিত।

তিনি আরও জানান, এনসিসি (জাতীয় নিয়োগ কমিটি) গঠনের ক্ষেত্রেও উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন বলে দলের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ১০০ নারী সদস্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রক্রিয়াগতভাবে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে— এ নিয়ে এখনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি, তবে মিশ্র পদ্ধতির (এফপিটিপি ও টপ-আপ) মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই, দলগুলো যেন তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিতে বাধ্য থাকে। আমরা মনে করি, ৩৩ শতাংশের বিষয়টি এ মুহূর্তে কঠিন।  সেই সঙ্গে টপ-আপ পদ্ধতির মাধ্যমে বাকি নারী আসনগুলো পূরণ করে সংসদে ১০০ নারী সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এনসিপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক জাবেদ রাসিন ও মনিরা শারমিন।