সংসদে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘সংসদে বেশির ভাগ হয়ে গেছেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী, সেখানে শ্রমিকদের কেউ নেই। সেখানে শ্রমিক কেউ না থাকলে শ্রমিকের পক্ষ হয়ে কথা বলবে কে। সংসদে যিনি সংসদ সদস্য থাকেন, তিনি বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় শ্রমিকদের না হয়ে ব্যবসায়ীর পক্ষ হয়ে সংসদে কথা বলেন। তাই জাতীয় সংসদে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে।’

শুক্রবার (১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক উইংয়ের যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি চেয়ারের বদল হলেও শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। শ্রমিকের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আবার পুরোনো ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে একটি দল।’

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারও শ্রমিকদের বুকে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ যখন ক্ষমতায় বসে, তখন তার দায়িত্ব হলো শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অবদান আমরা মনে রাখবো। আপনারা এগিয়ে যান, এনসিপি আপনাদের পাশে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন থেকে শুরু করে সব কিছু সংস্কারের জন্য আলোচনা করা হলেও শ্রমিকদের জন্য সংস্কারের কোনও বিষয় নিয়ে কোনও দল আলোচনাই তোলেনি। অথচ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়াদের বড় একটি অংশই শ্রমিক।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘একটি দলের দুজন মহারথী সব জায়গায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদি এভাবে কোনও দালাল কাজ করে, তাহলে কীভাবে চলবে। এখন ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে না, বড় বড় করপোরেট হাউজের কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারের অদলবদল হলেও ফাইলের অদলবদল হয়নি। সংসদে অবশ্যই শ্রমিক প্রতিনিধি থাকতে হবে। এখন যারা আছেন তারা আইনজীবী কিংবা ব্যবসায়ী।’

এদিকে, জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের সময় আলেম সমাজের ওপর নির্যাতনকে জায়েজ বানিয়ে ফেলেছিল। এখন একটি দলের মহাসচিব ইসলামপন্থিদের দক্ষিণপন্থি আখ্যা দিয়ে আবারও তাদের কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি বলতে চাই, যদি দক্ষিণপন্থিরা দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটায় তবে আপনার সমস্যা কী। দক্ষিণপন্থার জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশে ইসলামপন্থিদের কোণঠাসা করার নতুন পাঁয়তারা চলছে, কিন্তু এভাবে আর জনগণকে বোকা বানানো যাবে না।’