জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমার জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। আমি জনগণের প্রতি, সবার প্রতি আহ্বান জানালাম, আপনারা নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আজ ভোটের দিন, আজ এই দেশে নিজেদের মালিকানা বুঝে নিন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ ভোট দিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানী বাড্ডার একেএম রহমতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজেকেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১৬ বছর সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ ছিল না। আমাদের আজ সুযোগ এসেছে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার, গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করার এবং ১১ দলের পক্ষে অবস্থান করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষ যদি ভোট দিতে আসে, তারা যদি স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারে, তাহলে অবশ্যই ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি না, কারণ ভয়-ভীতি যেন ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি না হয়। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসে সে জন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাই। প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ চাই। প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ আচরণ করে। তাহলেই সাধারণ মানুষের ভোট দিতে পারবে। ভোটাররা যত বেশি ভোট দিতে পারবে, আমাদের সরকার গঠনের পথ ততটাই সুগম হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও মিডিয়ার প্রতি আমাদের করোজোর অনুরোধ থাকবে, আমাদের এতো আন্দোলন-সংগ্রাম-আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়ে যাবে, যদি ভোট সুষ্ঠ না হয়। আমরা আশা করবো, তারা নিরপেক্ষ আচরণ করবে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ আচরণ করে তাহলে যারা গায়ের জোর দেখানোর চেষ্টা করছে, তারা সফল হবে না।
তিনি বলেন, আমরা কাল রাতে কয়েকটি জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা শুনেছি। আমাদের বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে আতিক মুজাহিদ, নোয়াখালীতে হান্নান মাসউদের, কুমিল্লায় হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকায় ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে একটা ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। ঢাকা-১১ আসনেও গতকাল রাতের অনেকগুলা জায়গায় আমাদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রতিকূলতাকে বেশি ফোকাস করছি না। আমরা ভোটে আসার জন্য আহ্বান করছি। কারণ আমরা চাই না, এইদিন কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক। আমরা চাই, মানুষ ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে আসুক। যারা এগুলো করছে আমরা মনে করি মানুষ ব্যালটে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে।