মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি, এমপিদের নীরবতার ব্যাখ্যা চায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নীরবতার কারণ জানতে চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তাদের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক খোলাচিঠিতে এই দাবি জানানো হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে সংসদ অনুপস্থিত অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার জনগণকে না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ হলে তা জনমনে উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করে।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির দাবি, চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে এই চুক্তির অবস্থান সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের অনুমোদনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে খোলাচিঠিতে। তবে এই বিষয়ে সংসদে কার্যকর আলোচনা বা প্রশ্ন উত্থাপন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের ভূমিকায় মনে হয়েছে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ভাষ্য, চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্কনীতির বিষয়টি ছিল, সেটিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। ফলে যে প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার আইনগত ভিত্তি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

তাদের দাবি, চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, কৃষি, ওষুধশিল্প, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য খাত, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

খোলাচিঠিতে চলতি সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষে খোলাচিঠিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা।