জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসামূলক রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি নিকৃষ্টতম অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হলেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে একটি প্রতিবাদ মিছিল শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রেস ক্লাব, তোপখানা, পল্টন, জিরো পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
মহানগর কমিটর সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ জাসদ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘‘ঘোষিত রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ড. ইউনূস সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আদালতকে উল্টে দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠন করা সেই আদালতে হাসানুল হক ইনুর বিচার করাটাই একটি প্রহসন।’’
তারা আরও বলেন, ‘‘স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে হাসানুল হক ইনুর অগ্রণী এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। এ জন্যই তার ওপর এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে।’’
তারা বলেন, ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় আনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ৬ জন হত্যা, বিভিন্ন স্থানে সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডের ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’র যে দায় ও অভিযোগসহ যে ৮ অভিযোগ আনা হয়েছিল সেগুলো আদালতের রায়েও প্রমাণিত হয়নি। তার বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’র দায় দেওয়া হলেও তিনি ওই সময় মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রীয়, সরকারি বা প্রশাসনিক কোনও দায়িত্ব বা পদে ছিলেন না। সে সময় পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় কোনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার কোনই নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সরকার পক্ষ কুষ্টিয়ায় ৬ জনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর সামান্যতম সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এই রায় বাতিলের দাবি জানান।