মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিসহ এ ধরনের সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণজমায়েত করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লালকার্ড’ প্রদর্শন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লালকার্ড‘ শীর্ষক স্লোগান দিয়ে উপস্থিত সবাই হাত উঁচু করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদের সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ঝগড়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘দাসত্বমূলক চুক্তির’ বিষয়ে যেন ‘নীরবতার ঐক্য’ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশনামা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা জনগণকে জানানো হয়নি। মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি পড়লে দেখা যায়, এটি কোনো চুক্তি নয় বরং বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার একটি মার্কিন হুকুমনামা।
এর ফলে প্রয়োজন বা দাম বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিস বিনা শুল্কে আমদানি করতে বাংলাদেশ বাধ্য হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ভর্তুকির বোঝা বাড়বে।'
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে এই সর্বনাশী চুক্তির বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব রয়েছে। ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাগবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বহুজাতিক করপোরেট স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন সবাই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’
গণজমায়েতে গান পরিবেশনা করে উদীচী, গানের দল সমগীত ও কোরাস। নাটক পরিবেশনা করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট ও বিবর্তন। এছাড়া, কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ এবং মাসুদ মনিরুল। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ দেশীয় স্বার্থ বিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে আজকের গণজমায়েতে দেশের বাইরেও থেকেও সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সম্মিলিত এই গণজমায়েতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।