শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি সাইফুল হকের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পর শ্রমিকরা ছাত্রদের মতো ক্ষমতার ভাগ নেয়নি, শুধু অধিকার চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, “অবিলম্বে নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে শ্রমিকদের জন্য বাঁচার মতো মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। তাদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা জরুরি।” ঐক্য আর লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।  

বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির যুব সংগঠন যুব সংহতির উদ্যোগে ‘গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।  

সাইফুল হক বলেন, “শ্রমিকের ন্যূনতম মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না।” তিনি বলেন, “শ্রমিককে বাঁচার মতো মজুরি প্রদান এক ধরনের বিনিয়োগের মতো। তাদের বাঁচার আন্দোলন কোনও চক্রান্ত ষড়যন্ত্র নয়।” তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার। শ্রমিকদের ঐক্য ও মাঠের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।”  

আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা  সামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশে এখন ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ। এই মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে গণ অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ব্যর্থ হবে।  

তিনি বলেন, “নতুন বিএনপি সরকারকে অবশ্যই শ্রমিকদের জন্য মানবিক জীবনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদে স্বাক্ষর করেছে। সে কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ তাদের গুণতান্ত্রিক দাবি পূরণে সরকার ও মালিকদের এক ধরনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদের ভেতরেও তিনি শ্রমিক অধিকারের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন।”  

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির  নেত্রী  বহ্নিশিখা জামালী বলেন, “জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শ্রমিকশ্রেণি হয়তো ভোটের অধিকার পেয়েছে, কিন্তু গত দুই বছরে শোষণ বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকশত কারখানা বন্ধ হয়েছে, বেকার হয়েছে কয়েক লক্ষ শ্রমিক; এর মধ্যে এক বড় অংশ নারী শ্রমিক।” তিনি বলেন, “শ্রমিকদের জীবন এখন আরও কঠিন ও দুর্বিষহ। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে অভূত্থান, ভোট, গণতন্ত্র সব ব্যর্থ হয়ে যাবে।”  

বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে ও ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায়  আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি শ্রমিকনেতা মাহমুদ হোসেন, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহসম্পাদক ফিরোজ আল মামুন মোল্লা, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মাস্টার, সরকারি প্রিন্টিং শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেন, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির নেতা মোহাম্মদ আলী, চুন্নু সিকদার প্রমুখ।