দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ অপরাপর কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সরকারি ঘোষণার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফুলবাড়ী খনিসহ অপরাপর কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ জানালো ছাত্র ইউনিয়ন।
একই সঙ্গে প্রাণ-পরিবেশগত ঝুঁকি আমলে নিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। দাবি মানা না হলে ২০০৬ সালের ন্যায় দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে বাধ্য করার হুশিয়ারি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ যৌথ বিবৃতিতে সরকারের নয়া-উদারবাদী নীতির সমালোচনা করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের নানা উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়া, জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণসহ নানাবিধ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রেসক্রিপশনে সরকার নয়া-উদারবাদী নীতি বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার ফুলবাড়ীসহ দেশের অপরাপর কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি এই কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হবে কোনও বিদেশি কোম্পানিকে, যেমনটি পূর্বে দেওয়া হয়েছিল এশিয়া এনার্জিকে। তারা সেগুলো উত্তোলন করে অধিক দামে বাংলাদেশের কাছেই বিক্রয় করবে, অথবা বিদেশে রফতানি করবে।”
এছাড়া উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নানাবিধ প্রাণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে। হাজার হাজার একর কৃষি জমি নষ্ট এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি নষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সর্বশেষ বিএনপি সরকারের আমলেই ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে কানাডার কোম্পানি নাইকোর গাফিলতিতে বিস্ফোরণ ঘটে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি সাধিত হয় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ গ্যাসের প্রচুর অপচয় হয়। বর্তমান বিএনপি সরকার সেগুলো ভুলে গিয়ে আবারও একই পথে হাঁটছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে তরিকুল, আমিন ও সালেকিন শহীদ হয়েছিলেন।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বিএনপি সরকার সম্ভবত তার পূর্বের গণআন্দোলনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা ভুলে গিয়েছে। কিন্তু ফুলবাড়ী এবং এদেশের জনগণ সেই লড়াইয়ের কথা ভুলে যায়নি। সরকার যদি আবারও ফুলবাড়ীসহ অপরাপর কয়লাখনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রচেষ্টা চালায় তবে পুনর্বার দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে উঠবে। সেই গণআন্দোলনে সরকার ভীতও নড়ে যেতে পারে। আমরা সরকারকে অবিলম্বে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে তার নয়া-উদারবাদী নীতি থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।”
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি কলকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া, জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদসমূহের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানায় সংগঠনটি।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিক জনগণ উল্লেখ বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, সরকার যদি তার নয়া-উদারবাদী নীতি থেকে সরে না আসে তবে প্রবল গণবিক্ষোভের ভেতর দিয়েই সরকার সমুচিত জবাব পাবে।