নিবন্ধন পেতে ইসিতে ফের আবেদন বাংলাদেশ জনতা পার্টির

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে একাধিকবার আবেদন ও প্রয়োজনীয় দলীয় এবং সাংগঠনিক নথিপত্র জমা দিয়েও নিবন্ধন না পাওয়ায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি)।

রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এ আবেদন করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী।

আবেদনে মিঠুন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ জনতা পার্টির নিবন্ধনের জন্য এর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন এবং প্রয়োজনীয় দলীয় ও সাংগঠনিক নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ এক স্মারকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা জানায় কমিশন। ওই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখেই বর্তমান বাস্তবতা ও বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন করা হয়েছে।

মিঠুন চৌধুরী দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও আইনগত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক মামলা করা হয় এবং এসব মামলার কারণে তাকে বিনা বিচারে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ কারাবাস ও মামলার কারণে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার রাজনৈতিক ও দলীয় কার্যালয় তছনছ করে দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন সাংগঠনিক নথি ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মামলা থেকে মুক্তির পরও বিভিন্ন ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার কারণে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি পুনরায় গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক হয়রানি ও কারাবাসের বিভিন্ন ঘটনা সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ ও ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেন মিঠুন চৌধুরী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ছবি এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও ছবির কপি আবেদনের সঙ্গে সহায়ক নথি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ জনতা পার্টির নিবন্ধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।