সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার ব্যর্থ হলে দায় বিএনপির: মাহমুদুর রহমান মান্না

সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সব দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, “বিরোধী দলসহ সব অংশীজনকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করতে হবে সরকারকে। গায়ের জোরে কিছু ভালো হবে না। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করা যাবে না, যাতে আরও সংকট বেড়ে যায়।” 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, “সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখলাম। এতে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “দেশের সব জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেফতার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।” 

তিনি বলেন, “সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি না-এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। যেখানে শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই। তাহলে সংস্কার কোথায়?” 

বগুড়ায় শিবগঞ্জে নিজের দলের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে মান্না জানান, তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনও মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি। 

তিনি বলেন, “মানে তারা নিম্নআদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।” তিনি আরও বলেন, “তার সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন কথা?” 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, “দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে লিটারে ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের পর খাল কাটার হুলুস্থুল হয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না।” 

তিনি বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এত দোষ দেওয়া হলেও তাদের সময় কিন্তু তেলের দাম বাড়েনি। 

তিনি বলেন, “আমরা চাই সরকার সফল হোক। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। রাষ্ট্র এমন হতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক হয় এবং সংবিধান বাস্তবায়ন হয়।” মান্না প্রশ্ন রেখে বলেন, “ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা কি বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে? তা না হলে পুনরায় স্বৈরাচার হয়ে ওঠা স্বাভাবিক। আর গণভোটের কথা অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠন করার কথা ছিল।” 

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দীপু, দেলোয়ার হোসেন রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিব আনোয়ার, নাগরিক ঐক্যের সদস্যসচিব ফেরদৌসী আক্তার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন প্রমুখ।