দিল্লিতে আন্দোলনে দমন ও গণগ্রেফতার বন্ধে শাহবাগে মশাল মিছিল

ভারতের ‎দিল্লিতে চলমান আন্দোলনে দমন-পীড়ন, গ্রেফতার বন্ধ ও আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার শাহবাগে মশাল মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ঢাকা নগর শাখার সহ-সভাপতি পঙ্কজনাথ সূর্য, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এবং ঢাকা নগর শাখার সভাপতি নওশিন মুসতারি সাথী, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের ঢাকা নগর শাখার আহ্বায়ক রবিউল করিম নান্টু এবং সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার। সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎সমাবেশে নওশিন মুসতারি সাথী বলেন, ভারতের ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। ছাত্র-যুবকরা তার পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। এই আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ভারত সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে, বিজেপির ছাত্রসংগঠন ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করে আন্দোলনের নেতৃত্বকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে আন্দোলনের বহু নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

তারা বলেন, দমন-পীড়ন এবং গ্রেফতার করে গণআন্দোলন থামানো যায় না, এর অন্যতম উদাহরণ ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দমন-পীড়ন এবং আন্দোলনের অভূতপূর্ব বিজয়। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে আটকদের মুক্তি দিতে হবে এবং ন্যায়সংঙ্গত আন্দোলনে দমন-পীড়ন, গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।
‎
‎রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নৃশংস দমন-পীড়নের ঘটনা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের কথিত দাবির আড়ালে থাকা বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে। একই সঙ্গে, এই গণপ্রতিরোধ সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকটকে স্পষ্ট করে তোলে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী গণআন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে। এ ঘটনা প্রমাণ করে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম ছাড়া শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় অসম্ভব।‎

‎তিনি আরও বলেন, আমরা ভারত সরকারের প্রতি আন্দোলনের গণদাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, ভারতের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই এবং তাদের প্রতি বিপ্লবী সংহতি ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।