চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেন। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে যেতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। সম্প্রতি ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দফতরে যান নবনিযুক্ত উপাচার্য। সেখানে ২৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ক্যাম্পাসে আর না ফেরার শর্তে তিনি বেরিয়ে যান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় একমাস ধরে আন্দোলন করছেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবির হয়ে আছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্তত ছয়টি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেশনজট ও শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
নেতারা আরও বলেন, “শুধু চুয়েটেই নয়, গণঅভ্যুত্থানের পর সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য নিয়োগসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম-কানুন মানা হয়নি, দলীয়করণ করা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দলীয় নিয়োগ, আন্দোলনের মুখে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের আশ্রয় নেওয়া এসব পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের চিত্র। এখনও এসবের পুনরাবৃত্তি চলছে, যা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত।”