সুপারশপে সামাজিক দূরত্ব মেনেই বেচাকেনা

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সারাদেশে লকডাউন জারি করা হয়েছে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য পাশে থাকছে স্বপ্ন’সহ অন্যান্য সুপারশপ। লকডাউনে স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বপ্ন’র আউটলেটগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কেনাকাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বপ্নের গুলশানের আউটলেটে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে মেশিনে ক্রেতাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপর হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে দিচ্ছেন কর্মচারীরা। ট্রলিগুলোতে স্প্রে করে দেওয়া হচ্ছে। শপে ক্রেতাদের বেশির ভাগই সামাজিক দূরত্ব মেনে পণ্যাদি ট্রলিতে রাখছেন। এরপর দূরত্ব মেনে পেমেন্ট করছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনেই বাজার করছেন ক্রেতারা।

প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেছে, রাজধানীর ধানমন্ডির আউটলেটে। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পণ্য কিনছেন। এই আউটলেটে পেঁয়াজ, ডাল, ছোলা-মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেশি কিনছেন ক্রেতারা।

স্বপ্ন সুপার শপের আউটলেটের একাধিক কর্মচারী বলেন, রমজানের আগে ক্রেতাদের উপস্থিতি একটু বেশি ছিল। বিধিনিষেধ ও রোজার কারণে একটু কম। তবে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিয়মিত বাজার করছেন ক্রেতারা ।

ক্রেতা কম হওয়ার আর একটি কারণ হলো এখন অনেকেই অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছেন। তারা ঘরে বসেই পার্সেল নিচ্ছেন।

গুলশান আউটলেটে বাজার করতে আসা জেরিন খান বলেন, ‘বাজার করতে এসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। কারণ লোকজন কম। এখন মার্কেটে যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই স্বাস্থ্য সচেতন। গা ঘেঁষাঘেঁষি করতে হচ্ছে না।’

স্বপ্ন সুপারশপের হেড অব কাস্টমার অ্যানালিটিকস অ্যান্ড কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজার মেহজাবিন বাঁধন বলেন, ‘গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সামনে রেখে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এগুলো ছাড়া কেউ সুপারশপের ভেতরে যেন প্রবেশ না করে সেটি খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

আউটলেটগুলোতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের স্পর্শ বেশি থাকে এমন সব স্থান যেমন: আউটলেটের দরজা, সেলফ, ফ্রিজ ইত্যাদি জায়গাতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বপ্নের আউটলেটে কর্মরত কর্মকর্তা ও বিক্রয়কর্মীদের জীবাণুমুক্ত থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ দিনে অনলাইন অর্ডার আগের চেয়ে ৩৫ ভাগ বেড়েছে। হোম ডেলিভারি এবং ই-কমার্স মিলে ১৪ ভাগ, আর বাকিটা আমাদের স্টোরে বিক্রি হচ্ছে।’

স্বপ্নের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সাব্বির নাসির বলেন, ‘এই সময়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আউটলেটের সব কর্মকর্তা এবং বিক্রয়কর্মীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়াও স্বপ্ন’তে প্রবেশের সময়ই স্যানিটাইজার দিয়ে গ্রাহকদের হাত জীবানুমুক্ত করা হচ্ছে।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।