বাজারে মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার’

সিরামিক টাইলসের পর এবার স্যানিটারিওয়্যার ব্যবসায় প্রবেশ করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেঘনা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এমসিআইএল)। ‘নিখুঁত, নির্মল, ফ্রেশ’ ট্যাগলাইন নিয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে এসেছে ‘ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার’।

নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচরে এমসিআইএলের কারখানায় এর আগে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল পণ্যগুলোর উদ্বোধন করেন। এ সময় এমজিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার, পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা এবং এমসিআইএলের সিওও এ কে এম জিয়াউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারে অধিকতর হোয়াইটনেস, উন্নত গ্লস ও গ্লেজ হার্ডনেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে পণ্যের উজ্জ্বলতা, মসৃণ ফিনিশিং ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনা প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, নির্মাণসামগ্রী খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও গ্রাহকদের আস্থার ভিত্তিতে স্যানিটারিওয়্যার ব্যবসায় প্রবেশ করেছে এমজিআই। গুণগত মান, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও গ্রাহকদের আস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারকে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।

৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ

স্যানিটারিওয়্যার ব্যবসায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এমসিআইএল। প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় মাসে প্রায় ৬০ হাজার পিস স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিকভাবে ছয়টি পেডেস্টাল বেসিন, দুটি ওয়ান-পিস ওয়াটার কমোড, তিনটি টু-পিস ওয়াটার কমোড এবং তিনটি স্কোয়াটিং প্যান নিয়ে বাজারে এসেছে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার। শুরুতে সাদা রঙের পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন রঙ ও নকশার পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে এসব পণ্য উৎপাদনে শতভাগ আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিশর, ভারত, জার্মানি ও চীন থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভবিষ্যতে টেবিল টপ বেসিন, ইউরিনালসহ আরও বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমসিআইএল।

এমজিআইয়ের পরিচালক তানজিমা মোস্তাফা বলেন, নির্মাণসামগ্রীর বাজারে গ্রাহকদের চাহিদা পরিবর্তিত হচ্ছে। পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মান ও নির্ভরযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। এই চাহিদা পূরণে আধুনিক নকশা ও উৎপাদন প্রযুক্তির সমন্বয়ে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিরামিকসের পাশাপাশি এমজিআইয়ের নির্মাণসামগ্রীর পোর্টফোলিওতে সিমেন্ট, স্টিল, ইট ও ব্লক এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর রয়েছে। ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিভিন্ন খাতে ৫৭টিরও বেশি শিল্প ইউনিট পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে এমজিআই।