ঝড়ু-বাশারা যখন জয় উদযাপনে সেন্ট্রাল উইকেট দৌঁড় দিলেন, ওই মুহূর্তে সংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডা মারছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি। সাকিব দৌঁড়ে এসে মাশরাফিকে টেনে নিয়ে সাবেকদের সঙ্গে উদযাপনে সামিল হলেন। হওয়টাই স্বাভাবিক। জেমকন খুলনা মাস্টার্সের সাপোর্টার যে তারা দুইজন! সাকিব-মাশরাফি দুইজনই খুলনার খেলোয়াড়। খুব স্বাভাবিক ভাবেই খুলনপ্রীতি থাকবে। তাই উদযাপনে তারা ছিলেন আনন্দে আত্মহারা।
বুধবার মিরপুরের সবুজ গালিচায় সাবেকদের নিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর আড়াইটায়। বৃষ্টির কারণে ২৫ ওভারের নির্ধারিত ম্যাচটি কমে আসে ১৮ ওভারে।
আগে ব্যাটিং করা এক্সপো বাংলা অলস্টার মাস্টার্স নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম ও সোহেল হোসেন মিলে ওপেনিং জুটিতে গড়েন ৩০ রান। জাতীয় দলের হয়ে স্লো খেলার খেতাব পাওয়া গুল্লু এদিনও করেন স্লো ব্যাটিং। ২১ বল খেলে তার সংগ্রহ ১৭ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন সোহেল হোসেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ২৭ রানের ইনিংস। এছাড়া লাবলুর রহমান ২৩ ও আজম ইকবাল ২০ রান করেন।
জেমকন খুলনা মাস্টার্সের বোলারদের মধ্যে তাসকিতুল ইসলাম টোটাম সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম, মুরাদ খান, সুমন শাহা প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন।
১২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জেমকন খুলনা মাস্টার্স। জেমকনের দুই ওপেনার জামাল বাবু ও অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন মিলে ওপেনিং জুটিতে ২৬ রান সংগ্রহ করেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান আসে সাবেক অধিনায়ক বাশারের ব্যাট থেকেই। তিনি ৩২ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটিংই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয় জেমকনকে। শেষ দিকে মোহাম্মদ সেলিম (১৫) ও সঞ্জয় চক্রবর্তীর (১৪) রান দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আলী আরমান (৬*) ও সুমন সাহা (৭*) সপ্তম উইকেটে ৯ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।
অলস্টার মাস্টার্সের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন তালহা জুবায়ের। তিন ওভারে ২৮ রান দিয়ে তিনি একটি নেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন ফাহিম মুনতাসির। এছাড়া সেজান ও মাসুদুর রহমান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন। সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত ৩ ওভারে ১৭ রান দিলেও উইকেট নিতে পারেননি একটিও।
/এফআইআর/