মার্কিন খেলোয়াড়রাও নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করে পদক জিতেছেন!

রুশ অ্যাথলেটদের নিষিদ্ধ করার পর ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (ডব্লিউএডিএ)-র বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির হ্যাকারগোষ্ঠী। ডব্লিউএডিএ-র ডেটাবেস হ্যাক করার দাবি করেছে রুশ হ্যাকারগোষ্ঠী ‘ফ্যান্সি বিয়ার্স’। তাদের অভিযোগ, সেরেনা উইলিয়ামস, ভেনাস উইলিয়ামস, সাইমন বাইলসের মতো মার্কিন অ্যাথলেটরাও নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবন করে অলিম্পিক খেলেছেন ও পদক জিতেছেন।

ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি

হ্যাকারদের দাবি, ডব্লিউএডিএ-র ডেটাবেস থেকে মার্কিন অ্যাথলেটদের সম্পর্কে এরকম ডজনখানেক ফাইল হ্যাক করেছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্তন এক নম্বর টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস অক্সিসাইডন, হাইড্রোমরফন, প্রেডনিসন, মেথিপ্রেডনিসনের মতো নিষিদ্ধ ড্রাগসের ব্যবহার করেন। সেরেনার বোন ভেনাস উইলিয়ামসও ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ড্রাগস ব্যবহার করে আসছেন।

হ্যাকারদের বিস্ফোরক অভিযোগের তালিকায় বাদ যাননি রিও অলিম্পিকের চারটি সোনাজয়ী অ্যাথলেট সিমোন বাইলস। রিও অলিম্পিকের আগে ডোপ পরীক্ষাতেই নাকি ধরা পড়েছিলেন সাইমন বাইলস। অভিযোগ রয়েছে, তার শরীরে নিষিদ্ধ ড্রাগস মেথিফেনিডেট ছিল। কিন্তু তাকে এজন্য নিষিদ্ধ করা হয়নি। ২০১৩-২০১৪ সালেও তাকে নিষিদ্ধ ড্রাগস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ডব্লিউএডিএ।

সিমোন বাইলস

রুশ হ্যাকারগোষ্ঠী ‘ফ্যান্সি বিয়ার্স’-এর দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ অলিম্পিকের পদক তালিকায় সবার আগে থাকবে, এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ওরা ৪৬টি সোনা, ৩৭টি রৌপ্য, ৩৮টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। মোট ১২১টি পদক। মার্কিনিরা ভালো খেলেছে। কিন্তু সোজা পথে খেলেনি। ডোপিং করার লাইসেন্স নিয়ে অলিম্পিকে খেলতে নেমেছিল তারা। আন্তর্জাতিক ডোপিং সংস্থা ডব্লিউএডিএ-র মেডিক্যাল ও বিজ্ঞান বিভাগগুলো দুর্নীতিবাজ ও অসৎ।’

এদিকে, ডব্লিউএডিএ তাদের গোপন নথি হ্যাক করার জন্য ওই হ্যাকারগোষ্ঠী ও রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে। তবে রুশ সরকার এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তাদের কোনও সংযোগ নেই বলে অভিযোগ অস্বীকার করে।

সেরেনা উইলিয়ামস

সম্প্রতি ডব্লিউএডিএ-র এক তদন্ত প্রতিবেদনে রুশ অ্যাথলেটরা ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’ নিষিদ্ধ ড্রাগস নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আর এজন্য পুরো দলকে অলিম্পিক গেমস থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণারও দাবি ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত রুশ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন রুশ টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা। তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে নিজের স্বাস্থ্যগত কারণে মেলডোনিয়াম ড্রাগ সেবন করছিলেন তিনি। আর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়ে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এপি।

/এসএ/