এর আগে প্রথম সেশনে দুই উইকেট হারালেও প্রাপ্তি হিসেবে ছিল মুশফিক ও তামিমের ৬৬ রানের জুটি। আর এই জুটিতে ভর করেই বড় লিডের দিকে ছিল স্বাগতিকরা। বিরতির পর ফিরে সেই জুটিকে আঘাত হানলেন কামিন্স। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৮ রান। লিড দাঁড়িয়েছে ১৮১ রান। মুশফিক ব্যাট করছেন ২৭ রানে আর সাকিব আল হাসান ১ রানে।
দিনের শুরুটায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েই শুরু করেছিলেন ওপেনার তামিম। প্যাট কামিন্সের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চার দিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম। প্রথম কয়েক ওভার ব্যাটসম্যানদের মতোই প্রতিরোধের দেওয়াল তৈরি করছিলেন। ২৮তম ওভারের শুরুতেই সেই দেওয়ালে আঘাত হানেন গোট খ্যাত নাথান লিওন। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন অসি এই স্পিনার। তাইজুল ২২ বলে ফেরেন ৪ রানে। যেখানে ছিল একটি চার।
তাইজুল প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান না হলেও এই কোটায় ছিলেন বামহাতি ইমরুল। অথচ প্রথম ইনিংসের মতো তিনিও ছিলেন ব্যর্থ। ২ রানে তাকে ওয়ার্নারের তালুবন্দী করান লিওন। এরপরই ফিফটি হাঁকান তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে। ইমরুল বিদায় নেওয়ার পর মাঠে নামেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক। আগের ইনিংসে ব্যর্থ ছিলেন ভালো ইনিংস খেলতে। এবার তামিমের সঙ্গী হয়ে ভালো ইনিংসের সেতু গড়ছেন দুজন।
আগের দিন প্রথম ইনিংসের মতো ব্যাটিং দুর্দশার মুখোমুখি হতে হয়নি বাংলাদেশকে। বরং সম্ভাবনাময়ী জুটি গড়ার পথে ছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু উঁচিয়ে মারতে গিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো কিছু করতে পারলেন না সৌম্য। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে অনেক উঁচু শট নিয়েছিলেন; লং অনে দাঁড়ানো উসমান খাজার হাত ফসকে দুইবার বল বেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ধরা দেন তার হাতেই। ১৫ রানে বিদায় নেন সৌম্য। ৫৩ বলে সাজানো ছিল তার ৩ বাউন্ডারির ইনিংস।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে সাকিব-মিরাজের স্পিনে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রতিরোধ গড়ে তারা অ্যাগার ও প্যাট কামিন্সের জুটিতে।
তাদের ৪৯ রানের জুটিতে ৮ উইকেটে ১৯৩ রানে চা বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় সেশনে এসেই সাকিব এ জুটি ভাঙেন। কামিন্সকে (২৫) বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন এ স্পিনার। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে ৫ রানে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান তিনি। ৭৪.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১৭ রানে।