দ্বিতীয় দিন ফলোঅনে পড়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন সেই চ্যালেঞ্জ পার করতেই মাঠে নেমেছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু পারেননি। দিনের পঞ্চম ওভারেই সেই কাগিসো রাবাদার বলে পুরনো ভুল। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে শরীরের ভারসাম্য না রেখেই খেলেছিলেন। ফলাফল দ্বিতীয় স্লিপে তালুবন্দী হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার (৩)। স্থির হওয়ার মতো লক্ষণ দেখাননি মুমিনুল হকও। রাবাদার শর্ট বলে উঠিয়ে মেরেছিলেন। বাউন্ডারির কাছে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন মহারাজের হাতে। মুমিনুল সাজঘরে ফেরেন ১১ রানে।
এরপর অবশ্য বাংলাদেশ শিবিরে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিলেন মুশফিক। ডুয়েন অলিভিয়েরের শর্ট বল সরাসরি গিয়ে লাগে মুশফিকের হেলমেটে। এরপর হেলমেট খুলে মাটিতে শুয়ে পড়েন তিনি। ব্যথায় মুশফিক যে যন্ত্রণা পাচ্ছিলেন তা বুঝা যাচ্ছিল স্পষ্টই। যদিও পরে গুরুতর কিছু আর হয়নি। হালকা সেবা নিয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান। এরপরেই অলিভিয়েরের বলে ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার ইমরুল। ৫৩ বলে চেষ্টা করেছিলেন থিতু হতে। কিন্তু উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩২ রানে। যাতে ছিল ৫টি চার ও একটি ছয়। এরপর কিছুক্ষণ ক্রিজে প্রতিরোধ দেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকও। কিন্তু প্রোটিয়া পেস বলে থিতু হতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২৬ রানে পারনেলের বলে হয়ে যান এলবিডাব্লিউ। এরপর রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। বরাবরের মতো বিচক্ষণতার প্রমাণ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
প্রথম সেশনে প্রোটিয়াদের শর্ট বলে বাংলাদেশ যে ধুঁকছে তা বুঝা যাচ্ছে স্পষ্টই। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯২ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ (১৪)। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে ৩৩৪ রানে।
এর আগে চার সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ৫৭৩ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে দ্বিতীয় টেস্টে। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই টালমাটাল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৬৫ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় তারা। ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার মিছিল থামে লিটন দাসের ব্যাটে। তিনি একাই লড়েছেন, কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ফলোঅন এড়াতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে টাইগাররা অলআউট হয়েছে ১৪৭ রানে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা পায় ৪২৬ রানের লিড।