এই টেস্টের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫ মাস পর সাদা পোশাকে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল টাইগাররা।
নতুন কোন সিরিজ শুরু হওয়ার আগে দুই দলের শক্তিমত্তা এবং দুর্বলতা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। অ্যান্টিগায় শুরু হওয়ার টেস্টটিও এর বাইরে নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১২টি টেস্ট খেলেছে। যার মধ্যে ৬টি দেশের মাটিতে আর ৬টি প্রতিপক্ষের মাটিতে। মোট ১২ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র ২টিতে জয়ের মুখ দেখেছে, ৮টিতে হার এবং ড্র করেছে ২টিতে।
মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সুখস্মৃতি। যদিও ওই সফরে কিছুটা খর্বশক্তির দলে পরিণত হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আঞ্চলিক বোর্ডগুলোর দ্বন্দ্বে প্রথম সারির ক্রিকেটাররা সিরিজ বয়কট করলে দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষেই সিরিজ খেলতে হয় বাংলাদেশকে। তখন টাইগারদের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
এমন সুখস্মৃতি সঙ্গে থাকার পরেও ২০১৪ সালের ক্যারিবিয়ান সফরটা ছিল হতাশার। মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি টাইগাররা। ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেও বিদেশের মাটিতে বলার মতো তেমন একটা সাফল্য নেই বাংলাদেশের। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ দলকে প্রমাণ করতে হবে যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সামর্থ্য তারা রাখে। হয়তো সাকিবের অধিনায়কত্বের প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই বাংলাদেশ বাইরের দেশেও নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হবে!
তামিম, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল। এর বাইরে দলে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারও রয়েছেন।
সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ব্যাটিংয়ে বাড়তি কিছু পাওয়ার আশাতে। ওপেনার তামিম ইকবাল, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে মুশফিকের ব্যাটিংয়ের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। সিনিয়র এই চার ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের স্কোর কতদূর যাবে?
ব্যাটিং নিয়ে চিন্তার তেমন কারণ না থাকলেও বোলিং নিয়ে মাথা ব্যথার যথেষ্ট কারণ আছে। ইনজুরি কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার মোস্তাফিজ নেই টেস্ট সিরিজে। তার অনুপস্থিতিতে আবু জায়েদকে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালোই করেছেন। এ ছাড়া কামরুল ইসলাম রাব্বী, রুবেল হোসেন, শফিউলরা রয়েছেন। আসলে পেস বোলারদের ওপরই আক্রমণের মূল দায়িত্ব থাকবে।
নতুন কোচ স্টিভ রোডসের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। দেশ ছাড়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর সামর্থ্য আছে বলে জানিয়েছিলেন ইংলিশ এই কোচ, ‘টেস্ট সিরিজটা খুব একটা জটিল হবে না। আমরা টেস্ট ম্যাচ জয়ের সর্বাত্মক চেষ্টাই করবো। সেজন্য আমাদের শুরুটা ভালো করতে হবে। সেটা করতে পারলেই বাকি কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন ক্রিকেট কোন মহাকাশ বিজ্ঞান নয়। এখানে আপনাকে মাঠের খেলাটা ভালো খেলতে হবে এবং প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো যেন তারা ম্যাচেই ফিরতে না পারে।’
এদিকে অ্যান্টিগা টেস্ট শুরু হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন, ‘আমাদের দলটা অনেক ভালো। তবে ম্যাচে কী ঘটবে এ ব্যাপারে আগে থেকে কিছু বলা মুশকিল। আশা করি দারুণ একটা সিরিজ হবে। আমরা এই সিরিজে ভালো করতে মুখিয়ে আছি।’
আরও একটি কারণে এই টেস্ট সিরিজিটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাগতিকদের কাছে হেরে গেলে বর্তমান র্যাংকিং হারাবে বাংলাদেশ। ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেস্ট র্যাংকিংয়ের আট নাম্বারে আছে সাকিব আল হাসানের দল। ৭২ পয়েন্ট নিয়ে নবম অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্ট সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিততে পারলেই বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সিরিজ ড্র কিংবা বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জিতলে র্যাংকিংয়ে আর কোন প্রভাব পড়বে না।