মুশফিকের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬১

মূল জুটিটা গড়েছিলেন মিঠুন ও মুশফিক।প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ ছিলো লাসিথ মালিঙ্গার। প্রায় ব্রাত্য হয়ে পড়া এই টো ক্রাশার এশিয়া কাপের উদ্বোধনীতে বল হাতে ছিলেন বারুদ ঠাসা। তার আগুনে বোলিং বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে খুব। তবে স্রোতের বিপরীতে সংগ্রাম করে বাংলাদেশকে ২৬১ রানের পুঁজি পাইয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি।

অবশ্য এমন বড় পুঁজি পাইয়ে দিতে লড়াকু তামিমের উপস্থিতি প্রভাবক হয়েই কাজে দিয়েছে বাংলাদেশের। চোট নিয়ে যার এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার কথা সেই তামিমের আচমকা উপস্থিতি প্রাণ ফেরায় বাংলাদেশ শিবিরে। ২২৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অল্প পুঁজি নিযে মাঠ ছাড়ার অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। ব্যান্ডেজ খুলে সেই তামিম তখনই উপস্থিত হন মাঠে। এক হাতে বল খেলে স্ট্রাইক দেন মুশফিককে।  তাতে রানের চাকা আনায়াসে সচল করে রাখেন মুশফিক। চার ছয় মেরে বাংলাদেশের স্কোরটাকে নিয়ে গেছেন ২৬১-তে। আপাতদৃষ্টিতে মুশফিকের ইনিংসটাকে ওয়ান ম্যান শো মনে হলেও শেষ দিকে যোদ্ধা তামিমের উপস্থিতি দিয়েছে বুক ফোলানো আত্মবিশ্বাস।  

শুরুটা অবশ্য ভয় জাগানিয়া ছিল বাংলাদেশের। ক্যারিবিয়ান সফরে টি-টোয়েন্টিতে আলো ছড়িয়েছিলেন লিটন দাস। এশিয়া কাপে এনামুলের বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। শুরুতে খেলতে নামলেও ব্যর্থতাই সঙ্গী ছিল লিটনের। লঙ্কান দলে দীর্ঘ দিন পর আসা টো ক্রাশার মালিঙ্গা কাঁপিয়ে দিয়েছেন টপ অর্ডার। লিটনকে প্রথম স্লিপে তালুবন্দী করিয়ে আক্রমণের শুরু।

পরের বলে সাকিব আল হাসান নামলে ফুলার লেন্থ বল করেন অফ স্টাম্প বরাবর। মিড অনে ড্রাইভ করতে গেলে উড়ে যায় তার অফ অফ স্টাম্প। উদ্বোধনীতে বাজে শুরুর দিনে আরও বড় আঘাত হয়ে আসে তামিমের চোট। দ্বিতীয় ওভারে লাকমলের বল পুল করতে গিয়ে ব্যথা পান বাম হাতের আঙুলে। চোট নিয়ে সরাসরি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন সঙ্গে সঙ্গে। 

বিপদের মাত্রা বেড়ে যেত পঞ্চম ওভারেই। আরেকটি সুযোগ এসেছিল শ্রীলঙ্কার। লাসিথ মালিঙ্গার বল লিডিং এজ হয়ে বাতাসে ভেসে উঠেছিল। লঙ্কান অধিনায়ক ম্যাথুজ ডাইভ দিয়ে বল তালুবন্দী করার চেষ্টা করলেও হাতে জমা পড়েনি বল। একই ওভারে শেষ দিকে আবারও ক্যাচ উঠিয়েছিলেন মিঠুন। ফিল্ডার বল লুফে নিতে ব্যর্থ হলেও নো বোলের সঙ্কেত দেন আম্পায়ার।

এরপর ঢিমে তালে চলে বাংলাদেশের রানের চাকা। ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় অষ্টম ওভার পর্যন্ত।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে থাকা মুশফিক-মিঠুন লঙ্কান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন ধীরে ধীরে। এই জুটি যখন হুমকি হয়ে উঠছিল তখনই জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগটি আসে। দশম ওভারে থিসারা পেরেরার বল স্কয়ার লেগে আলতো করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিক। লঙ্কান ফিল্ডাররা ব্যর্থতার সেই ধারা ধরে রাখেন মুশফিকের বেলাতেও। ক্যাচ হাতে নিতে পারেননি দিলুরুয়ান পেরেরা।

ধীরে ধীরে লঙ্কানদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই জুটি। নতুন করে আক্রমণে লাসিথ মালিঙ্গা আসলে তুলে নেন মিঠুনের উইকেট। অথচ এই মিঠুনকেই ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় ফেরানো যাচ্ছিল না। ৬৩ রানে ব্যাট করতে থাকা মিঠুন বল বাতাসে উঠিয়ে দিলে ক্যাচ নেন উইকেট কিপার পেরেরা। ১৩১ রানের জুটি ভেঙেছে মিঠুনের বিদায়ে। 

পরের ওভারে নতুন নামা মাহমুদউল্লাহকে বিদায় করেন আপোনসো। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে বিদায় করেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। মোসাদ্দেক হোসেন নামলেও মালিঙ্গার বলে ছিলেন ব্যর্থ। ফিরে গেছেন ১ রানে। 

তারপর মেহেদী হাসানকে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক বেশ কিছুক্ষণ সামাল দেন ইনিংস। ১৫ রান তুলে ফেলা মিরাজকে ফিরতি বলে ক্যাচ আউট করেন লাকমল। অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাট থেকে এসেছে ১১ রান। লেজের দিকে মুশফিক ছাড়া আর কেউই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। তাই রুবেলকেও ফিরে যেতে হয় সাজঘরে। রুবেলকে তুলে নেন ধনঞ্জয়।
এই ধ্বংস স্তুপের মাঝে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মোস্তাফিজুর রহমান ১০ রানে ফিরে গেলে আপাতদৃষ্টিতে ইনিংসের সমাপ্তি মনে হচ্ছিল। আর তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব হয় তামিমের। এক হাতে লড়াকু যোদ্ধার উপস্থিতিতে অপর প্রান্ত শাসন করতে থাকেন মুশফিক। ১৪৪ রানে যখন ব্যাট করছিলেন তখন শেষ ওভারে থিসারা পেরেরার বলে তালুবন্দী হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তাতে ৪৯.৩ ওভারে ২৬১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম অপরাজিত ছিলেন ২ রানে।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে ১০ ওভারে ২টি মেডেনে ৪ উইকেট নেন মালিঙ্গা। দুটি নেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা।