শুভসূচনার খোঁজে বাংলাদেশ

দুই দলের অধিনায়ক।সিলেট শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের তোরণ-ব্যানার ঝুলছে। বিভাগীয় শহর আবারো ফুটবল উৎসবের অপেক্ষায়। এমন উৎসবে বাড়তি উন্মাদনা যোগ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই প্রতিপক্ষ লাওসের মুখোমুখি হবে তারা। সোমবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হবে দু’দল। বিটিভি, মাছরাঙ্গা ও নাগরিক টিভি সরাসরি ম্যাচটি সম্প্রচার করবে।

‘বি’ গ্রুপের এই প্রথম ম্যাচটি ঘিরে উত্তাপ কম নয়। দুদলই চাইছে জয় দিয়ে সূচনা করতে। যদিও ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে লাওস। যাদের অবস্থান ১৭৯তম। আর সুফিল-সবুজদের স্থান ১৯৩। আগের দুই দেখাতেও এগিয়ে লাওস। একটিতে জয় পেয়েছে তারা, অন্যটিতে ড্র।

তবে শেষের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়াতে বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। দুগোলে পিছিয়ে থেকেও দুগোল দিয়ে সমতা আনা ম্যাচটি ছিল আকালে ভোগা দেশের ফুটবলে এক পশলা বৃষ্টির মতো। কেননা সেই আন্তর্জাতিক ম্যাচটি বাংলাদেশ খেলেছে দীর্ঘ ১৭ মাস পর। সেবার কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড্রু ওর্ড। এবার ইংলিশ কোচ জেমি ডে।

সাফ ফুটবলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ে সেমিফাইনালে যেতে না পেরে বাংলাদেশ দল এমনিতেই চাপে আছে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অন্তত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছে। জেমি ডে সংবাদ সম্মেলনে তেমন লক্ষ্যের কথাই বললেন, ‘আমরা এই প্রতিযোগিতার জন্য মুখিয়ে আছি। দলের সবাই ফিট। খেলার অপেক্ষায় বলতে পারেন। আমরা সাফ ফুটবল থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়েছি। যদিও সেমিতে না যাওয়াটা ছিল হতাশার। কিন্তু এই আসরে ভালো করতে চাই।’

লাওসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে স্বাগতিকদের জন্য সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। জেমি ডে তাই বেশ সতর্ক, ‘লাওসের বিপক্ষে জিততে পারলে আমরা শেষ চার অনেকটাই নিশ্চিত করতে পারবো। কিন্তু ম্যাচ হারলে ছিটকেও পড়তে পারি। তবে আমরা জয়ের জন্য চেষ্টা করে যাবো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও তাদের বিপক্ষে খেলার জন্য সবাই প্রস্তুত।’

কোচের মতো অধিনায়কের কথাতেও একই সুর। মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমাদের চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চাপমুক্ত হলে খেলতে পারলে জয় আসবেই। তাহলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। এর আগে লাওসের বিপক্ষে গোল হজম করতে হয়েছিল। এবার তা হতে দেওয়া যাবে না। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পণ আমাদের।’

আরেক মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনির কণ্ঠেও শোনা গেলো আত্মবিশ্বাসের কথা, ‘লাওসের বিপক্ষে তাদের মাঠে ভুল করেছিলাম। এবার নিজেদের মাঠে কোন ভুল করা যাবে না। আমাদের আগে গোল করতে হবে। জয় পেতেই হবে।’

প্রতিপক্ষ লাওস কোচের মুখেও বাংলাদেশ বন্দনা। মাইক ওয়ং মুন হেঙ এর কথা, ‘বাংলাদেশ কিছুদিন আগে আমাদের বিপক্ষে খেলেছিল। সেটা ছিল ওর্ডের সময়। এখন জেমি ডের অধীনে থেকে বাংলাদেশ সাফের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। তবে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে- জেমি তার কাজটা করে যাচ্ছে, বাংলাদেশ উন্নতি করছে। তবে আমরা জেতার জন্য মাঠে যাবো। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার ইচ্ছা আমাদেরও।’