ব্যাটসম্যানদের প্রশংসায় সাকিব

জয়ের পর ম্যাচের একটি মুহূর্ত।সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ান পেসারদের গতিময় বোলিংয়ের বিপক্ষে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তারাই প্রতিপক্ষের পেস কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। তাই ব্যাটসম্যানদের কাজের প্রশংসা করেছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

বিশেষ করে ৩৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলা লিটনের প্রসঙ্গে টেনেই সাকিব বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয় গত ম্যাচ থেকে ব্যাটসম্যানরা অনেক শিক্ষা নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে যেটা হয়েছে ১৪০ কি.মি.তে যে বল আসছে ওটাকে আমরা ১৮০ কি.মি. বানিয়ে খেলতে গিয়েছি। এই ম্যাচে ১৪০ কি.মি. বলগুলোর পেস কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যানরা খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় অনেক ভেবে চিন্তে ব্যাটসম্যানরা করেছে। লিটন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজটা করে দেখিয়েছে।’

এছাড়া বড় স্কোর হওয়ার ক্ষেত্রে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর জুটিটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৯১ রানের জুটি গড়েছেন। সাকিব এই জুটির সঙ্গে লিটন, সৌম্যদের ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করলেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ে খুব ভালো শুরু করেছে লিটন, তারপর সৌম্য ওটা এগিয়ে নিয়েছে। এরপর আমি এবং রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাইয়ের জুটিটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমাদের জুটি ভেঙে গেলে স্কোরবোর্ডে এই রানগুলো আসতো না। ২০/৩০ রানের স্ট্রেন্থটা পেতাম না। সেদিক থেকে ব্যাটিংয়ে আমাদের আসল কাজটা হয়ে গেছে।’

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধারাবাহিকতায় ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এমন ব্যাটিংয়ের রহস্যটা কী? উত্তরে সাকিব জানালেন, ‘টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কোন নির্ধারিত নিয়ম নেই। আমার মনে হয় আমাদের আজ খুব ভালো দিন ছিল। ফিল্ডিংয়ে হয়তো কিছু জায়গাতে সমস্যা ছিল। কিন্তু বাকি জায়গাতে সেরা ক্রিকেট খেলেছি।’

অপর দিকে পেসারদের এমন ভয়াল দিন খুব কমই গিয়েছে বাংলাদেশের।  বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য পেসারদের হাত ধরেই। অথচ বৃহস্পতিবার রনি-সাইফউদ্দিন-মোস্তাফিজরা ছিলেন নখদন্তহীন! বৃহস্পতিবার সবচেয়ে ছন্নছাড়া বোলিং করেছেন মোস্তাফিজ। দুটি উইকেট নিলেও ১২.৫০ গড়ে ৫০ রান দিয়েছেন। সাইফউদ্দিন চার ওভারে দিয়েছেন ৪২। তাদের চেয়ে কিছুটা ভালো বোলিং করেছেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি। ৪ ওভারের ৩৩ রান নিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাকিব অবশ্য  পেসারদের পক্ষেই যুক্তি দেখালেন। একই সঙ্গে বললেন এখান থেকেই শিখবেন তারা, ‘এরকম পরিস্থিতিতে বল করার অভ্যাস কজনের আছে, আমি জানি না। আমার অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি কী ধরনের বল করলে ভালো হবে। সবার ওই অভিজ্ঞতা নেই। আজকের ম্যাচ তাদের জন্য ভালো একটা অভিজ্ঞতা। আশা করি এই অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনের ম্যাচে তারা ভালো করতে পারবে।’

তবে বোলিংযের ক্ষেত্রে ‘শিশির’ যে আজকে প্রভাব ফেলেছে সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘বোলারদের কথা বললে বলবো, এখানে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের বোলিং করা কঠিন। মাঠে অনেক শিশির ছিল। তারপরও স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান থাকাতে বোলাররা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিং করতে পেরেছে।’