এক সময় জাতীয় দলে নিয়মিত হলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় হয়ে পড়েন ব্রাত্য। ঘরোয়া লিগের ধারাবাহিকতাতেই নতুন করে একাদশে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় তিনি। এবার সুযোগ পেলে তা আর হাতছাড়া করতে চান না ফরহাদ রেজা। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে একের পর এক পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়া এই ক্রিকেটার আয়ারল্যান্ডেও পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত।
পাঁচ বছর পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা তার কাছে স্বপ্ন পূরণের মতোই। ফরহাদ রেজা শেষবার বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৪ সালে। ওয়ানডে খেলেছেন তারও আগে, ২০১১ সালে। পুনরায় ডাক পাওয়ায় বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি, ‘এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পরিশ্রম করলে সফল হওয়া যায়, এটাই হতে পারে উৎকৃষ্ট প্রমাণ। প্রথমে যখন শুনছিলাম প্রাথমিক দলে আছি, তখনই ভালো লাগছিল। আর এই সুযোগটা হুট করেই পাওয়া। এর অনুভূতি প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।’
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাছে জাতীয় দলের এই অনুশীলনের অভিজ্ঞতা মানে বিশেষ কিছু। পুনরায় সেই অভিজ্ঞতাটা কেমন লাগলো তার কাছে? উত্তরটা শুনুন ফরহাদ রেজার মুখেই, ‘সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মাশরাফি ভাই, তামিম, মুশফিক সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। সবমিলিয়ে প্রথম দিনটা ভালোই কেটেছে।’
৭ বছর পর দেশের জার্সিতে ওয়ানডে খেলার সুযোগ এখন ফরহাদের সামনে! দীর্ঘ এই সময়টাতে দুইজন মানুষ ফরহাদকে প্রেরণা জুগিয়ে গেছেন। ফরহাদ নিজেই জানালেন সেই কথা, ‘আমার খেলা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে দুইজন মানুষের অবদান আছে। তারা সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। যখনই হতাশ হয়েছি, তারা বলেছেন পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। এদের একজন আমার মা। আরেকজনের নাম বলতে চাইছি না। এই দুজনের উৎসাহেই আমি সাফল্য পেয়ে যাচ্ছি।’
ফরহাদ রেজাকে আয়ারল্যান্ডেই পরখ করতে চায় বাংলাদেশ। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান রবিবার দিয়েছেন তেমন ইঙ্গিত, ‘আমরা যেহেতু আয়ারল্যান্ডে যাচ্ছি, সেখানে একটি-দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে সে নিজেও বুঝতে পারবে এবং আমরাও বুঝতে পারবো তার সম্পর্কে। কারণ কোনও ক্রিকেটার যদি ইনজুরিতে পড়ে তাহলে তার কথা মাথায় আছে।’
আকরাম খানের কথাতেই স্পষ্ট আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ফরহাদের জন্য নতুন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষা পার হতে কতখানি প্রস্তুত তিনি? উত্তরে জানালেন, ‘পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্রিকেট খেলেছি। টিকে থাকতে হলে এখনো আমাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আমি প্রস্তুত, আগে যেভাবে চেষ্টা করেছি, সামনেও সেভাবেই করবো। যতদিন পর্যন্ত অবসর নিচ্ছি না, ততোদিন পর্যন্ত আমি জাতীয় দলের জন্য চেষ্টা করে যাবো। আর চেষ্টা করবো পাওয়া এই সুযোগটা কাজে লাগানোর।’
গত মৌসুমে ৬৭ উইকেট নেওয়া ফরহাদ এখন অনেকটাই পরিণত। তাই এই মুহূর্তে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তিনি, ‘এই মুহূর্তে আমি খেলাটা খুব ভালো বুঝি। আগে যেটা বুঝতাম না। ভালো খেলার পেছনে খেলা বোঝাটা জরুরি। হয়তো এই কারণে আমি এখন ধারাবাহিক।’
সদ্য সমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৩৮ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। এছাড়া ব্যাট হাতেও ছিলেন কার্যকরী। নিয়েছেন ২০৭ রান। এর আগে লিগের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে ৪ ম্যাচে ১১ উইকেট ও ২২৭.৬৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ১০৭। বিসিএল, এনসিএল মিলিয়ে এবারের মৌসুমে ১০০ উইকেট শিকার করেছেন। এর আগের মৌসুমে সংখ্যাটা ছিল ৬৭। ঘরোয়া লিগের এই ফর্মই ২০১৪ সালের পর ফরহাদ রেজাকে পুনরায় জাতীয় দলে খেলতে সুযোগ করে দিয়েছে।সেই সুযোগ কতটুকু কাজে লাগাতে পারেন তা দেখার অপেক্ষা।