বর্ষপূর্তি বিশেষ: আশাবাদী রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক।একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো দল। এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন? ইংল্যান্ড-ওয়েলসের মাটিতে টাইগারদের নিয়ে আশাবাদী দু’টি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক।
বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ দল অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকের এটা চতুর্থ বিশ্বকাপ, আর মাহমুদউল্লাহ ও রুবেলের তৃতীয়। তবে শুধু অভিজ্ঞ নয়, তরুণদের কাছেও অনেক প্রত্যাশা রাজ্জাকের, ‘বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে শুধু সিনিয়রদের নয়, তরুণদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচেই তরুণরা নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে সৌম্য-লিটন-রাহী-মোসাদ্দেক-সাব্বিরদের ভালো করার জোরালো সম্ভাবনা। তারা কতটা ভালো ক্রিকেটার সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার এটাই সেরা সময়। আশা করি তারা দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন।’

অনেকের মতে, অভিজ্ঞতার কারণে এটাই বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ দল। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুরও তেমনই অভিমত। তবে রাজ্জাক তা মানতে নারাজ, ‘এটা বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ দল এমন ভাবলে ভুলই হবে। কারণ, জাতীয় দলের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়েই বিশ্বকাপ দল গড়া হয়। তাই এটাকে আমাদের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ দল বলতে পারছি না। বর্তমান সময়ের সেরা ক্রিকেটারদের বাছাই করেই বিশ্বকাপ দল গড়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই।’
গত তিনটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ভারতকে বিদায় করে সুপার এইটে উঠেছিল টাইগাররা। সেরা আটের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বধ ছিল বিশাল প্রাপ্তি। চার বছর পর ঘরের মাঠে অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ইংল্যান্ডকে হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৮ ও ৭৮ রানে অলআউটের লজ্জায় পড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০১৫ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন প্রত্যাশা ছিল না টাইগার ভক্তদের। সেটাই স্বাভাবিক। আগের বছরটা একদমই ভালো যায়নি দলের। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ হার মেনেছিল চার ম্যাচেই। এমনকি আফগানিস্তানকেও হারাতে পারেনি। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার পরই অন্য চেহারা টাইগারদের। মাশরাফির নেতৃত্বে জ্বলে ওঠে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডকে বিদায় করে পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।

গত দু’টি বিশ্বকাপে ১৪টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলেছিল। তারপর গ্রুপের সেরা চার দল পেয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। কিন্তু এবার ভিন্ন ফরম্যাটে লড়াই। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে ১০ দল একে অন্যের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-ওয়েলসে। এরপর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে।
নতুন ফরম্যাটে খেলা, তাই দুশ্চিন্তা হওয়ারই কথা। রাজ্জাক অবশ্য অভয় দিচ্ছেন ক্রিকেটারদের, ‘মাশরাফিদের ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করে এগোতে হবে। ৫/৬টা ম্যাচ জিততেই হবে এমন ভাবনা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলে চলবে না। আমার মনে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে অনেক রান হবে। ইংল্যান্ডের প্রথাগত উইকেট নয়, বরং ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হবে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে নামলে বাংলাদেশের ভালো না করার কোনও কারণ নেই। আশা করি আমাদের দল নকআউট পর্বে খেলতে পারবে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ অন্যতম ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে হবে আরেক শক্তিশালী দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। শুরুতে দুই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি না হলেই কি ভালো হতো না? রাজ্জাকের উত্তর, ‘বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। এই টুর্নামেন্টে ছোট দল-বড় দল বলে কিছু নেই। পাকিস্তান কি ছোট দল? ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ যেমন শক্তিশালী, তেমনি বোলিং আক্রমণও শক্তিশালী। ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে তো শেষ দুই ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তাই শুরুতে বা শেষে কার সঙ্গে খেলা সেটা কোনও ব্যাপার নয়। এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো ফল করতে হলে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে। অবশ্য শুরুটা ভালো করা যে কোনও টুর্নামেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।’

ইংল্যান্ডে তামিম ইকবালের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। লর্ডস আর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টেস্ট সেঞ্চুরি আছে তামিমের। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ১২৮, ৯৫ ও ৭০ রানের তিনটি দারুণ ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। বিশ্বকাপে তাই তামিমে ভরসা খুঁজছেন রাজ্জাক, ‘আমি তামিমের ব্যাটে আস্থা রাখতে চাই। বিশ্বকাপে ওর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাজে আসবে। দলকে এগিয়ে নিতে ওর ভালো খেলার বিকল্প নেই।’

তবে শুধু তামিম নয়, দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে জ্বলে ওঠার আহ্বান এই বাঁহাতি স্পিনারের, ‘বাংলাদেশকে জিততে হলে একজনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দল হিসেবেই সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। আমি দলের তরুণদের ফিয়ারলেস ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দেবো। সেই সঙ্গে দলগত পারফরম্যান্স যেন ঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’