দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলে সাকিব আর মুশফিকের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়েই এক পর্যায়ে জয়ের পেছনে ছুটছিলো বাংলাদেশ। এই জুটিতে ওঠে আসে ১০৬ রান। সাকিবের সেঞ্চুরির পূর্বে ভেঙে যায় আশা জাগানিয়া এই জুটি। লিডিং এজ হয়ে প্লাঙ্কেটের বলে ফিরেছেন মুশফিক। পয়েন্টে রয়কে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ৪৪ রানে।
এই জুটি ভাঙার পর পরই ধীরে ধীরে মিইয়ে যেতে থাকে সব আশা। বিপদটা আরও বেড়ে যায় নতুন নামা মিঠুন মাত্র শূন্য ফিরলে। আদিলের লেগ স্পিনে খেই হারিয়ে কট বিহাইন্ড হন। তারপরেও ২০১৫ সালে ইংল্যান্ড বধের নায়ক মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে আবার জুটি গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকলেও ১২১ রানে তাকে বোল্ড করে দেন বেন স্টোকস। নতুন নামা মোসাদ্দেক নেমে কিছু শটস খেললেও ২৭ রানে বিদায় নিয়েছেন স্টোকসের বলে। মাহমুদউল্লাহও ২৮ রানের বেশি কিছু করতে পারেননি। উডের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। সাইফকে বোল্ড করে অষ্টম উইকেটটিও তুলে নেন স্টোকস।
শুরুতে ইংল্যান্ডের বিশাল রান পাহাড় টপকাতে চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়ে গেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রানে ওপেনার সৌম্য সরকার বোল্ড হয়ে ফেরার পর তামিম ফিরেছেন ১৯ রান করে। বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকেন অভিজ্ঞ সাকিব আর মুশফিক।
তবে ইংলিশ পেসারদের গতির মুখে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেখে শুনে খেলতে গিয়ে বরং উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন সৌম্য সরকার। জোফরা আর্চারের ক্ষিপ্র গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েই চতুর্থ ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। জো রুট ঠিকমতো না হওয়াতে হাতে জমাতে পারেননি। অবশ্য পরের বলে আর পারেননি আর্চারকে রুখতে। বল সরাসরি স্টাম্প ভেঙে পৌঁছে যায় বাউন্ডারি লাইনে!
সাকিব নামার পর সেই পেস আক্রমণেই চাপ বজায় রাখে ইংলিশরা। সাকিব-তামিম জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকলে আর্চার, ওকসের পর নতুন করে আক্রমণে আনা হয় মার্ক উডকে। উঠিয়ে মারতে গেলে তামিম মরগানের হাতে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভারে। তামিম ফিরেছেন ১৯ রানে।
তার আগে কার্ডিফে রানের পাহাড় গড়েছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশকে তারা ছুঁড়ে দিয়েছে রেকর্ড ৩৮৭ রানের লক্ষ্য। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৮৬ উইকেট রান তুলেছে ইংলিশরা। ফলে জিততে হলে বিশ্বকাপে রেকর্ড রান তাড়া করেই জিততে হবে টাইগারদের।