১১ জুলাই ২০১০। দিনটি নিশ্চয়ই ভুলেন যাননি ডাচরা। ওইদিনই জোহানেসবার্গে স্পেনের হাতে খুন হয় নেদাল্যান্ডের স্বপ্ন। গত বিশ্বকাপটা শেষ হয়েছিল স্পেন আর নেদারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। এবারও দু দলের বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে সেখান থেকেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপের শুরুতেই ফুটবলপ্রেমীদের বড় পাওনা গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি গতবারের ফাইনালিস্টরা। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সালভেদরের ইতালপাভা অ্যারেনা ফন্তে নেভা স্টেডিয়ামে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও রানার্সআপ নেদারল্যান্ড যখন মাঠে নামবে, তখনই ম্যাচটা রেকর্ডবুকে ঢুকে যাবে। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো আগেরবারের দুই ফাইনালিস্ট মুখোমুখি হচ্ছে! বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই হারের ক্ষত এখনো দগদগে ডাচদের। খেলার আগে তাই ডাচ স্ট্রাইকার একরকম প্রকাশ্যেই বলে ফেলেছেন, এটা তাদের প্রতিশোধের মিশন। কমলা জার্সিতে সেঞ্চুরি ম্যাচ খেলতে নামা স্নাইডার বলেন, চার বছর আগের হারের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। ওই ফাইনালের হারের জ্বালা জুড়োতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে স্পেন এগিয়ে থাকলেও ইতিহাস বলছে, উভয় দলের নয়বারের লড়াইয়ে স্পেনের জয় চারটি, নেদারল্যান্ডের চারটি। অন্যটি ড্র। চার বছর আগে বিশ্বকাপ, তার আগে আর পরে দু’বার ইউরো কাপ-- পরপর টানা তিনটে টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন! স্বাভাবিকভাবেই খেলায় ফেভারিট ভিসেন্তে দেল বক্সের শিষ্যরা। অন্যদিকে ১২ বছর পর আবার ডাচ কোচ হয়ে আসা লুই ফন গলের হাতেও অ্যারিয়েন রোবেন, পার্সি ও স্নাইডারের মতো অস্ত্র । উভয় দলের দুই কোচ মস্তিষ্কের লড়াইয়েও কম যান না। ফন গলের ঝুলিতে আছে প্রায় সব ট্রফিই। অন্যদিকে দেলবক্সের ঝুলিতে বিশ্বকাপ ও ইউরো। তাই স্পেনের তিকি-তাকা বনাম কমলাদের ঐহিত্যবাহী টোটাল ফুটবলের একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচই দেখতে যাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে শুভ সূচনা করবে স্পেন, নাকি প্রতিশোধের উৎসবে মাতবে টোটাল ফুটবলের জনকরা তা জানা যাবে রাতেই। এদিকে দিনের অপর একটি খেলায় রাত ১০টায় স্যামুয়েল ইতোর ক্যামেরুন মুখোমুখি হবে ম্যাক্সিকোর। খেলার আগে ম্যাক্সিকোর বড় প্রতিপক্ষ তাদের ইতিহাস। এর আগে কখনোই বিশ্বকাপে কোন আফ্রিকান প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি তারা! রাত ৪টায় দিনের শেষ খেলা হবে চিলি এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। এমআর