ব্রাজিলে চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে বিশ্ববাসীর উন্মাদনার শেষ নেই। স্বাগতিক ও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে ব্রাজিলীয়রাও শরিক এই উন্মাদনায়। কিন্তু উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিদ্যমান শ্রেণীবৈষম্যের কদর্য রূপ বিশ্ববাসীর কাছে এড়াতে পারছে না ব্রাজিল। দেশটির উচ্চবিত্তদের মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে একদিকে যেমন দেখা যাচ্ছে মাতামাতি অন্যদিকে মধ্যবিত্তরা তখন শামিল বিক্ষোভে। অার নিম্নবিত্তদের ছুঁতে পারছে না বিশ্বকাপের অানন্দ। কারণ তারা সবসময়ের মতোই ব্যস্ত জীবনযুদ্ধে।
গত বুধবার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাজিলের একটি ছবি এখন অনেকের কাছেই অালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। যা দেশটিতে থাকা অানন্দ ও বিষাদের দুই রূপের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় সহজেই। গত বছরে কনফেডারেশন কাপের সময়ে তোলা ছবিটিতে দেখা যায়, রিও ডি জেনেরিও রাস্তায় ব্রাজিলের হলুদ জার্সি পরে সমর্থকরা একদিকে দল বেঁধে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে, অার তার পাশেই ডাস্টবিনে ময়লা হাতড়ে বেড়াচ্ছে এক ছোট্ট মেয়ে। হলুদ জার্সি পরা একটি ছেলে তার দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে পানির খালি বোতল। ছবিটির নিচে ক্যাপশনে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা রয়েছে 'ল্যাস দস কারাস দি ব্রাজিল' বা 'ব্রাজিলের দুই চিত্র' (দ্য টু ফেসেস অব ব্রাজিল)।
ছবিটি প্রথম দেখা যায় বৃহস্পতিবার বিকেলে টুইটারে। এরপরেই তা ছড়িয়ে যায় অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও। অার এতেই বিশ্বকাপ নিয়ে দেশটিতে চলমান অান্দোলনের বিষয়টি নতুন করে অালোচনায় উঠে এসেছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে অবকাঠামো ও স্টেডিয়াম নির্মাণে অতিরিক্ত খরচ করার জন্য জনগণের ওপর চেপে বসেছে বিশাল পরিমাণ করের বোঝা। বেড়ে গেছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সামগ্রীর দাম। ফলে গত এক বছর ধরে দেশটিতে চলছে তুমুল বিক্ষোভ। এমনকি বুধবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অাগেও সাও পাওলোর রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই দিন বিক্ষোভ হয়েছে অারো ১০টি শহরে। অাক্রমণ হয়েছে একটি টেলিভিশন স্টেশনে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিল স্টেডিয়াম নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। যার বড় অংশেরই যোগান এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
হেলেন সান্তোস নামে রিও ডি জেনেরিওর এক স্কুলশিক্ষিকা বলেন, 'ফুটবলের জন্য এখন বিভিন্ন লোকের হর্ষধ্বনি শুনছে বিশ্ব। কিন্তু তারা অামাদের দেশের পরিস্থিতি পাল্টানোরও দাবি করছে। পৃথিবীর দেখা প্রয়োজন যে অামরা এখনো কতটা অান্তরিক। অামরা শুধু একটা ফুটবল পাগল জাতিই নই, সেই সঙ্গে অামাদের সরকার দেশবাসীকে ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে। পুরো বিশ্বের উচিত শুধু খেলা নয় বরং ব্রাজিলের জনগণের সামগ্রিক বাস্তবতাটা বোঝা।'