নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-৫ গোলে হারার পরই রব উঠেছিল এই বুঝি বেজে উঠলো ‘তিকি-তাকা’র মৃত্যুঘণ্টা। সত্যি তিকি-তাকার মৃত্যু হয়েছে কি-না সেই চূড়ান্ত পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফুটবল তীর্থ মারকানায় চিলির সঙ্গে দ্বৈরথে নামে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই ম্যাচে স্প্যানিশদের ২-০ গোলে হারিয়ে তিকি-তাকার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিল চিলি। বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। স্পেন ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ড সবার আগে নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিও। রাত ১টার দিকে রিও ডি জেনিরোর মারকানা স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও চিলি। খেলার ২০ মিনিটে ভারগাসের গোলে পিছিয়ে পড়ে স্পেন। আলেক্স সানচেজের বাড়িয়ে দেওয়া বল স্পেনের জালে ঢুকান এদুয়ার্দো ভারগাস। আর তাতে হতাশ স্প্যানিশদের সামনে প্রথমবারের মতো উল্লাসে মেতে ওঠে চিলি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে (৪৩ মিনিটে) আরাগুয়িজের করা গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় চিলি। এতেই বিশ্বকাপ থেকে স্পেনের বিদায়ী সুর বেজে উঠে। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি কোনও দলই। নিজেদের বাঁচন-মরণ ম্যাচে দলে দুটি পরিবর্তন আনেন স্পেন কোচ ভিসেন্ত দেল বস্ক। ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের জায়গায় দলে সুযোগ হয় বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জাভি মার্টিনেজ। আর জাভি হার্নান্দেজের জায়গায় আসেন ডেভিড সিলভা। তারপরও শেষ রক্ষা হলো না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। দুই ম্যাচ খেলে ৭ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে বল ঢোকাতে পেরেছে মাত্র একবার! অবস্থা এমন যে কোনওরকম স্পেনের প্লেনের উঠতে পারলেই বাঁচে জাভি, ইনিয়েস্তা, ক্যাসিয়াস, ফ্যাব্রেগাসের মতো তারায় খচিত দলটি। তবে স্পেন সান্তনা খুঁজে নিতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ান হওয়ার পর এমন লজ্জায় প্রথম পড়েনি তারা। ১৯৬২-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল '৬৬-তে এসে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিয়েছিল। একই ঘটনা ঘটেছিল '৯৮-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের ক্ষেত্রে। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০১০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিল। ব্রাজিল, ফ্রান্স ও ইতালির মতো লজ্জাজনক রেকর্ডের পাতায় ঢুকলো স্পেনও। মারাকানাও স্বাক্ষী হয়ে থাকলও ফুটবল ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণের। যাতে মৃত্যু রচিত হলো তিকি-তাকা সভ্যতার!