ভারতের বিপক্ষে ঘোষিত দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার আছেন। যাদেরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার হিসেবে ধরা হচ্ছে। আবু হায়দার রনি, আফিফ হোসেনরা এতোদিন সিনিয়রদের ছায়া হয়ে ছিলেন। এবার তাদের সামনে সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার। গত সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফিফ নিজের প্রতিভা বেশ ভালো করেই জানান দিয়েছিলেন। সেই সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিপর্যয়ের মুখে ৫২ রানের আলো ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। সেই ইনিংস দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন ক্রিকেটে রাজত্ব করতে এসেছেন। ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা আফিফের সামনে এবার সুযোগ সাকিবের অভাব ভুলিয়ে ব্যাট ও বল হাতে ভূমিকা রাখার।
গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন আবু হায়দার রনি। সাইফউদ্দিনের ইনজুরিতে ভারতের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। জাতীয় দলে ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা রনি অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ১২ ইনিংসে বল করে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৬টি। তবে সবমিলিয়ে মোট ৫৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে তার উইকেটসংখ্যা ৫৩টি। এবার তার সামনেও সুযোগ নিজেকে প্রমাণ করার। মোস্তাফিজ, আল আমিন হোসেনের সঙ্গে তৃতীয় পেসার হিসেবে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে এই পেসারের।
গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ পেলেও ম্যাচ খেলা হয়নি নাঈম শেখের। এবার হয়তো অভিষেকটা হয়েই যাবে তার! ভালো ফর্মে থাকা ইমরুলকে বাদ দিয়ে নাঈম শেখকে সুযোগ দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বোঝাই যাচ্ছে নির্বাচকরা কতটা আস্থা রেখেছে ২০ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের ওপর! আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির পর গত অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের সফরে দুটি হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর তাতেই টিকিট পেয়ে যান জাতীয় দলের। এখন অপেক্ষায় অভিষেকের। রবিবার মিডল অর্ডারে নাঈম শেখের অভিষেক হয়েও যেতে পারে!
চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচে আলো ছড়িয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তার লেগ স্পিন জাদুতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা খেই হারিয়ে ছিল। এরপর অবশ্য ইনজুরিতে বাকি ম্যাচগুলোতে খেলা হয়নি তার। ভারতের বিপক্ষে তরুণ এই লেগস্পিনারের সামনে সুযোগ ভিন্ন কন্ডিশনে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার। এই চ্যালেঞ্জে বিপ্লবের জয় মানেই বাংলাদেশের জয়। কেননা গত কয়েক বছর ধরেই একজন ভালো মানের লেগ স্পিনার হন্যে হয়ে খুঁজছে বিসিবি।
এদিকে সৌম্য-লিটন-মোসাদ্দেকরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে খেললেও নিজেদের ছায়া হয়েই আছেন। সাকিব-তামিমবিহীন বাংলাদেশ দলকে ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে এই তিনজনের পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন পেসার আল আমিন হোসেন ও বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি। এদের সামনেও সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও মনে করছেন অভিজ্ঞ দুইজন ক্রিকেটার না থাকলেও নিজেদের মেলে ধরার এই সুযোগ তরুণদের, ‘যারা ইয়াং স্টার আছে…আফিফ, নাঈম, বিপ্লব-এদের ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে। ওরা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবে এটা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি। এছাড়া আল আমিন ক্যামবেক করেছে। সানি দীর্ঘদিন পর ফিরেছে। সবমিলিয়ে তাই এদের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্স আশা করছি। তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে চাই।’