আইসিসির বাড়তি ইভেন্টের বিরোধিতায় ‘বিগ থ্রি’

নতুন চক্রে আরও ইভেন্ট যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ভারত এর বিরোধিতা করে আসলেও সঙ্গী পাচ্ছিলো না কাউকে। এবার পুরনো সঙ্গীদের পাশে পেয়ে নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ক্রিকেটের শক্তিধর তিন বোর্ড তথা ‘বিগ থ্রি’। এবার ভারতের পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াও সরব হয়ে উঠেছে আইসিসির নতুন এফটিপি ক্যালেন্ডারের বিরুদ্ধে।

২০২৩ থেকে ২০৩১ চক্রে নতুন পরিকল্পনায় আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্ট থাকছে আটটি। আট বছরের এই চক্রের পরিকল্পনার ফলে প্রতি বছরেই ছেলে ও মেয়েদের আইসিসির একটি করে টুর্নামেন্ট থাকবে এই সময়ে। 

শুরুতে স্থায়ী কমিটি না থাকায় শক্তভাবে এর বিরোধিতা করতে পারেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। নতুন কমিটি গঠন করার পর আইসিসির এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে এখন আরও দুই বোর্ডকে পাশে পেয়েছে তারা। তিন শক্তিধর দেশেরই আশঙ্কা নতুন ইভেন্ট প্রভাব ফেলবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ক্যালেন্ডারে।

ভারতের পর ইসিবিও লিখিতভাবে আইসিসিকে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানিয়েছে। ইসিবি চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস জানিয়েছেন, এটা দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটকে শুধু ঝুঁকিতেই ফেলবে না, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকেও মূল্যহীন করে দেবে। গ্রেভসের আপত্তির পর বিষয়টি নিয়ে ভাবতেই হতে পারে আইসিসিকে। কারণ দুই শক্তিশালী কমিটির সদস্য তিনি। অর্থ ও বাণিজ্যিক বিষয়ক কমিটিতে আছেন, সঙ্গে আইসিসির মূল বোর্ডেরও সদস্য। ভারতের মতো সরাসরি আপত্তি জানিয়ে ইসিবি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘প্রতি বছরে একটি করে আইসিসি ইভেন্টের বিষয়টি ইসিবি সমর্থন করতে পারে না। কারণ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিও আছে। এতে করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অবমূল্যায়িত হয়ে পড়বে। শঙ্কায় ফেলবে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতকে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নতুন এই চক্র এখনও আলোচনার বিষয় হিসেবেই থাকা উচিত।’

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক বিসিসিআই সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরের ভাই অরুন ধুমাল বলেছেন, ‘আইসিসির নতুন এই কাঠামোর অবশ্যই বিরোধিতা করবো। যদি চূড়ান্ত রূপ নিতে থাকে তাহলে আমরা সদস্যদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করবো না।’