এই তো একদিন আগে বাংলাদেশ গেমস স্থগিত করা হয়েছে। চলমান প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ নিয়ে এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।আপাতত সাতটি ভেন্যুতে লিগ চলছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখন একটি ভেন্যুতে লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বাফুফের। আর সেটা হতে পারে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। খোদ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিজেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামীকাল শনিবার লিগ কমিটির সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে তার আগেই একটি ভেন্যুতে খেলা নিয়ে ক্লাবগুলো দ্বিধা-বিভক্ত!
প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিচ্ছে ১৩টি দল। এর মধ্যে ৭ দলের ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। বাকি ৬ দলের ভেন্যু ঢাকার বাইরে। আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু বর্তমান পরিস্থিতে ঢাকায় খেলতে ইচ্ছুক। তার যুক্তি, ‘খেলা বন্ধ করলে তো সবার ক্ষতি। করোনার কারণে খেলা সাময়িকভাবে ঢাকায় হলে আমাদের কোনও সমস্যা নাই। খেলাটা চললে সবার ওপর চাপ কমে যাবে। পরে আবার জাতীয় দলের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে তবে। তখন সেটা সমন্বয় করে নেওয়া যাবে।’
তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন শেখ জামালের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলাল, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ভেন্যুতে খেলা হওয়া উচিত। বিশ্বের অন্য খেলা কিন্তু দর্শক ছাড়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় খেলা স্থগিত করা হচ্ছে। আমি মনে করি ঢাকার বাইরে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। ঢাকায় ভেন্যু সাময়িকভাবে হওয়া উচিত। পরে সমস্যা কেটে গেলে আগের মতো সব জায়গায় খেলা হবে।’
ঢাকার বাইরে না যাওয়ার পেছনে যুক্তিও তুলে ধরেছেন এই ক্লাব কর্মকর্তা, ‘ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ধরনের লোকজন থাকে। বাইরের হোটেলসহ অন্য জায়গায় ভাইরাসের ঝুঁকি থাকতে পারে। আর ঢাকায় তো নিজের মতো যাওয়া-আসা। সবাই পরিচিত। সেক্ষেত্রে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়।’
তবে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে হোম ভেন্যু নেওয়া বসুন্ধরা কিংস কিছুতেই একটি ভেন্যু অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলতে রাজি নয়। ক্লাবটির সভাপতি ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা কোনভাবেই এটা মানবো না। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা। সাতটি ক্লাবের হোম ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। আমরা চাইবো না অন্যের ভেন্যুতে আমাদের হোম ম্যাচ খেলতে। যদি নিরপেক্ষ ভেন্যু হলে আমরা খেলবো।’
ইমরুল আরও যোগ করেন, ‘ঢাকায় তো করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিটা বেশি। বরং ঢাকার বাইরে ঝুঁকি কম। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলতে রাজি আছি। কিন্তু এক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আমরা খেলবো না। আর্মি স্টেডিয়াম্ কিংবা অন্য স্টেডিয়াম হলে রাজি আছি। আসলে তাড়াহুড়োর কিছু নাই। এমনিতে এই সময়ে লিগের বিরতি ছিল। প্রয়োজন পড়লে বিরতিই থাকুক। ততদিনে পরিস্থিতি কোনদিকে যায় দেখা যাক।’
প্রথমবারের মতো কুমিল্লায় ভেন্যু নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবটির স্থায়ী সদস্য বাদল রায়ও এক ভেন্যুতে খেলার বিপক্ষে, ‘এখন এক ভেন্যুতে খেলা হলে কি করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়বে না? মোহামেডান ক্লাব বিশেষ প্রচেষ্টায় বাইরে দর্শক আনতে বাইরে ভেন্যু নিয়েছে ফুটবলকে সাহায্য করার জন্য। ভেন্যু করতে গিয়ে অনেক প্রচেষ্টা লাগে। ভেন্যু নিতে অনেক কষ্ট আছে। বাইরে ভেন্যু না থাকলে ফুটবলের ক্ষতি হবে। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব কৌশল আছে। এখন নিজেদের ভেন্যুতে খেলতে না পারলে তো সমস্যা।’
অন্য ক্লাবগুলোরও একেক জনের একেক মত। তবে মতামত যাই হোক না কেন, লিগ কমিটির সভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।