তবে সরকার অভয় দিলেও মানুষ এখন মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে ভয় পাচ্ছে। আগে খালি গায়েও পুরুষ সমর্থকদরে উল্লাস করতে দেখা গেছে স্টেডিয়ামে। এখন তারা মাঠে যেতে চাইছেন না, ঘরে থাকতেই পছন্দ করছেন। সমর্থক গ্যালারি ফাঁকা কিন্তু থাকছে না। কী করে? অবাক হওয়ারই কথা। অনেক ক্লাব গ্যালারি ভরছে ফ্যাশন পুতুল (ম্যানিকিন) আর সমর্থকদের কাট-আউট দিয়ে। দূর থেকে অন্তত মনে হচ্ছে নানা রংয়ের মানুষ ভরিয়ে রাখছে গ্যালারি। বুধবার বেলারুশিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ডায়নামো ব্রেস্ত যেমন করলো। ম্যাচটি ছিল বেলারুশিয়ান কাপের, তাতে স্বাগতিক ব্রেস্ত ২-০ গোলে হারায় শাখতিউর সোলিগোর্স্ককে। জয়ের পর পরই ক্লাবের পক্ষ থেকে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ‘বিশ্বজুড়ে থাকা আমাদের সমর্থকদের মনে হয় খুশি করতে পেরেছি আমরা। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, বন্ধুরা!’
‘বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থক’- এই শব্দগুলোও অবাক করা। ইউরোপের একমাত্র চলমান ঘরোয়া ফুটবল, সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রিয় মানুষেরই তাই আগ্রহ বেলারুশিয়ান লিগে নিয়ে। এই দাবির মধ্যে অসত্য কিছু নেই। আর সত্যিই তো অভিনব পদ্ধতিতে চলছে ফুটবল। অনলাইনে সারা বিশ্বের দর্শকদের বলা হচ্ছে ‘ভার্চুয়াল’ টিকিট কিনতে, বিনিময়ে তাদের কাটআউট অথবা ফ্যাশনে ব্যবহৃত ডামির ওপর ছবি লাগিয়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে গ্যালারিতে। ব্রিটেন, রাশিয়া, আরব আমিরাত, ইরান- নানা দেশের দর্শক সেখানে!
ডায়নামো ব্রেস্তের পরের ম্যাচ আগামীকাল, ব্রেস্তস্কি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে প্রতিপক্ষ ইসলোচ। অনলাইনে ভার্চুয়াল টিকিটি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে বুধবার থেকেই। এভাবে বিক্রিত টিকিট থেকে অর্জিত অর্থ অবশ্য ভালো কাজেই ব্যবহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বেলারুশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। খরচ করা হবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত প্রায় ১ কোটি মানুষের দেশটিতে এভাবে ফুটবল মৌসুম চলাটাকে ভালো চোখে দেখছে না। ৬৫ হাজার পেশাদার ফুটবলারের সংগঠনটি বলেই দিয়েছে, ‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তবে তাতে কী আর এসে গেলো বেলারুশিয়ান ফুটবল কর্তাদের! দেশের প্রেসিডেন্টই যে সরকারিভাবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে বলেছেন। প্রেসিডেন্টের অমর এক বাণীই হয়তো তাদের শিরোধার্য, ‘ ভদকা খাও আর করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জেতো।’