পিটারসেন বলছেন, ধোনিই সর্বকালের সেরা অধিনায়ক

ধোনি ও পিটারসেন যখন মুখোমুখি মাঠেক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বেছে নেওয়াটা খুবই দুরূহ কাজ। ১৪৩ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কত কত বিখ্যাত সব অধিনায়ক দেখেছে! ক্লাইভ লয়েড, ইমরান খান, কপিল দেব, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, সৌরভ গাঙ্গুলী, গ্রায়েম স্মিথ…।  ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান আর অল্প সময়ের অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনকে এই কঠিন কাজটাই করতে বলেছিল স্টার স্পোর্টস। পিটারসেন বলে দিলেন, মহেন্দ্র সিং সিং ধোনিই তার বিবেচেনায় সেরা অধিনায়ক। তার কথা, ধোনির গ্রেটনেস নিয়ে বিতর্ক তোলাটা কঠিন।

ধোনির অধিনায়কত্বে ভারতের সাফল্যের পাল্লাটা বেশ ভারী। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই ভারতকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান এনে দিয়েছেন (২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ), ভারত তার হাত ধরেই ২৮ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছে বিশ্বকাপ (২০১১), ভারতের একমাত্র চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটাও এসেছে তার অধিনায়কত্বে (২০১৩)। তার নেতৃত্বেই ভারত টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষে উঠেছে। আবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চেন্নাই সুপার কিংসকে শিরোপা জিতিয়েছেন তিনবার (২০১০, ২০১১ ও ২০১৮)। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি লিগে তার চেয়ে বেশি চারবারের শিরোপাজয়ী অধিনায়ক মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের রোহিত শর্মা।

অন্য যেকোনও খেলার চেয়ে ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকাটা বেশি। এখানে টস জিতে ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হয়,  ফিল্ডিং সাজাতে হয় বুদ্ধিদীপ্তভাবে, বোলার বদল, প্রয়োজনে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনা-মোটামুটি কথা সবকিছুতেই অধিনায়ককে এগোতে হয় হিসেব কষে, মগজ খাটিয়ে। অধিনায়কের একটি চালই খেলার গতিপথটা বদলে দিতে পারে। ব্যাটিংয়ে তো তাকে বলা হয় বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম ‘ফিনিশার’, তারপর উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে অসামান্য সব কীর্তি গড়েছেন। ব্যাটিং, উইকেটকিপিংয়ের পাশে মাথা ঠান্ডা রেখে অধিনায়কত্ব, এমনিতেই ধোনির নাম ‘ক্যাপ্টেন কুল’ হয়নি। ৬০ টেস্টে ভারতের অধিনায়কত্ব করে জিতিয়েছেন ২৭ টেস্ট, মাত্রই গত বছর তাকে টপকে সফলতমের মুকুট পরেছেন বিরাট কোহলি।

পিটারসেন ধোনিকে বেছে নিতে গিয়ে বলেছেন, ‘তার নিজের জীবন একপাশে রেখে প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশার ভার বয়ে যেভাবে সে ভারতের অধিনায়কত্ব করেছে, যেভাবে চেন্নাই সুপার কিংসকে নেতৃত্ব দিয়েছে, এটা দেখলে তার বিরুদ্ধে যাওয়াটা খুব কঠিন।’

করোনাভাইরাসের ভয়াল ছোবলে আইপিএল এবার হবে কি না সেই সংশয় আছে, তবু তার কাঁধেই চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়কত্বের গুরুভার। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর ভারতের জার্সি আর গায়ে ওঠেনি। অক্টোবর–নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে পক্ষে-বিপেক্ষে চলছে আলোচনা। করোনা সংক্ষিপ্ততম ক্রিকেটের বিশ্বকাপকেও রেখেছে ঘোর অনিশ্চয়তায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত হয়ে গেলে পিটারসেনের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও হয়তো সমাপ্তি ঘটবে।