আইসিসি ঘোষিত সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তানের রেটিং পয়েন্ট ৫৭ এবং বাংলাদেশের ৫৫। কার্যত তারা উঠে গেছে নবম স্থানে, কিন্তু মাত্র তিন টেস্ট খেলায় র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পায়নি। নবীন দেশ হয়েও আফগানদের এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক হতাশ। তবে হতাশার উল্টো পিঠে আশাও দেখেন তিনি।
করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্রিকেট। আর বিশ্বের এ সংকটকালেই র্যাঙ্কিংয়ে হলো বড় ধরনের পরিবর্তন। রেটিং পয়েন্টে আফগানদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ায় ভীষণ হতাশ লাগলো অধিনায়ক মুমিনুলকে, ‘এটা তো সত্যিই হতাশজনক খবর। আমরা ওদের আগে থেকে টেস্ট খেলছি, কিন্তু এখন ওদের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে আমাদের কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো যাচ্ছিল না। চট্টগ্রামে তাদের (আফগানিস্তান) সঙ্গে প্রথম টেস্টে আমরা পারিনি। ভারত, পাকিস্তানের কাছে হেরেছি। এগুলোর প্রভাব রেটিংয়ে হয়তো পড়েছে। সেটা যাই হোক, এমন খবর ভীষণ হতাশাজনক।’
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই সংস্করণে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নগন্য। গত দুই দশকে বাংলাদেশ ১১৮ টেস্ট খেলে মাত্র ১৩টি ম্যাচ জিতেছে। ড্র করেছে ১৬টি। অন্যদিকে হেরেছে ৮৯ ম্যাচ। মোট ম্যাচের ৭৫ শতাংশই হেরেছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কতটা হতশ্রী পারফরম্যান্স। তবুও আশা দেখছেন মুমিনুল, ‘এখন এগুলো ভেবে লাভ নেই। এই ফরম্যাটে আমাদের সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। আশা করি সামনে ক্রিকেটাররা আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কোচ দীর্ঘমেয়াদী বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মতো এই ফরম্যাটেও আমরা একদিন শক্তিশালী দল হয়ে উঠবো।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো শক্তিশালী হলেই টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো ততোটা সমৃদ্ধ নয়। মুমিনুলের আশা নীতি নির্ধারকেরা টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে ভাববেন, ‘ আশা করবো নীতি নির্ধারকেরা টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আরও একটু চিন্তা করবেন কিভাবে আমরা এই ফরম্যাটে আরও ভালো করতে পারি। পাশাপাশি আমরা ক্রিকেটাররা আরও দায়িত্বশীল হতে পারলেও এই ফরম্যাটে আমাদের সুদিন ফিরবে। ভবিষ্যতে আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, বড় দলগুলোকে হারাতে পারি, নিয়মিত বেশ কিছু সিরিজ জিততে পারি, তাহলে আফগানিস্তান কেন, অন্য যেকোনও দলকেই পেছনে ফেলতে পারবো।’
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে অধিনায়ক মুমিনুলের যাত্রা শুরু হয়েছে। দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতলেও ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি মুমিনুল। তবে নিজের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠে এখন তিনি দারুণ প্রস্তুত বলেই দাবি করলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে পারফরম্যান্স করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর কিছু ম্যাচে আমি এই দায়িত্বটা পালন করতে পারিনি। তবে ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি আমাকে কী করতে হবে। এই মুহুর্তে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী। সামনেই আপনারা এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলকে ভালো অবস্থানে দেখবেন।’
আগামী জুনে ২ টেস্টের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সফরটি আপাতত স্থগিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মুমিনুলের আশা, সুবিধাজনক সময়ে অস্ট্রেলিয়া এসে ঠিকই টেস্ট দুটি খেলে যাবে, ‘অস্ট্রেলিয়া স্থগিত করলেও যেহেতু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ, তাদের খেলতে আসতেই হবে। সেই হিসেবে এই বছর খেলা না হলেও ম্যাচ দুটো ঠিকই হবে।’