নতুন দল হিসেবে তার সময়ে বড় বড় দলগুলো বাংলাদশকে নিয়ে হাসি-েতামাশা করতো। সেসবের জবাব মাঠে দেওয়ার চেষ্টা করতেন খালেদ মাহমুদ। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের এশিয়া কাপে। মাহমুদের চোখ রাঙানির প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন তখনকার পাকিস্তান অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম।
রবিবার রাতে তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডায় সেই গল্পই শুনিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক দুই অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও হাবিবুল বাশার সুমন।
ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর গল্প বলতে গিয়ে মাহমুদ বলেছেন, ‘১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমি ৩ উইকেট পেয়ে গেছি। ওরা তখন চাপে। সে সময় আমাদের হারানোর কিছুই ছিল না। ওয়াসিম আকরাম আমার একটা ওভার খেলেছিল। ওই ওভারে একটা চারও খেয়েছিলাম স্ট্রেইট ড্রাইভে। ওভারের প্রথম বল থেকে আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।’
চোখ রাঙানির এই সাহসটা কোথা থেকে পেয়েছেন, এর উল্লেখও করেছেন সুজন, ‘‘এর একটা কারণও ছিল, আমাদের একজন বোলিং কোচ ছিল...নাম ভুলে গেছি। আসলে তার সামনে একদিন আমি নেটে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতকে বোলিং করছিলাম। বিদ্যুৎ একটা দারুণ শট করেছিল। আমি তাকে বলছিলাম, ‘গুড শট।’ তখন কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কি ম্যাচে গিয়ে এরকম বলতে পারবে?’ আমি তাকে বললাম, ‘না অসম্ভব।’ তখন সে আমাকে বললো, ‘ব্যাটসম্যানকে বোলিং করে গালি দেওয়ার দরকার নেই, তুমি শুধু চোখ গরম করো।’’
কোচের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী-ই ওয়াসিম আকরামের বিপক্ষে সেই অস্ত্র ব্যবহার করেছেন সুজন, ‘‘আমি সেটাই ওয়াসিম আকরামের দিকে ব্যবহার করেছি। তাকে চোখ রাঙানি দিয়েছিলাম। তখন সে আমাকে গালি দিয়েছে। বলেছে, ‘এই তুমি আমার দিকে তাকিয়েছ কেন, তুমি তো ছোট।’ তারপর আমি আবার করেছি আর আমাকে আবার গালি দিয়েছিল। তখন আকরাম ভাইকেও সে বিচার দিয়েছিল। মনে আছে সে বলেছিল, ‘আকরাম তোমাদের ছোটু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি আর কিছু বললাম না।’ পরের ওভারে এসে নান্নু ভাইয়ের ওভারে আউট হয়ে গেলো।’’
মাহমুদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করতে পারেননি ওয়াসিম আকরাম। প্রতিশোধ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ২০০০ সালের এশিয়া কাপে ওয়াসিমের সামনে সেই সুযোগ চলেও আসে। কিন্তু ওয়াসিমের প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি। কেনও হয়নি, তার বিস্তারিত জানান সুজন, ‘‘পরের বছর পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের ঢাকায় খেলা এশিয়া কাপে। আমি, পাইলট, দুর্জয় সবাই তো পরপর যাই (ব্যাটিং)। তো দুর্জয় ছয়ে, আমি বা পাইলট সাতে বা আটে। আমি সাতে ছিলাম আর দুর্জয় ছয়ে ছিল নাকি মনে নেই। আমরা তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেলাম। আমি রাজ্জাকের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফিরে আসি। পরে পাইলট ব্যাটিংয়ে গেলে ওকে ওয়াসিম জিজ্ঞেস করে, ‘এই তোমাদের ছোট কই? সে কি আজ খেলছে না’, তখন পাইলট বললো, ‘ও তো আউট হয়ে চলে গেছে।’ তখন সে বললো, ‘কখন আউট হয়েছে? ওকে তো আউট করার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ওকে তো বাউন্সার মারার পরিকল্পনা ছিল।’ আসলে আমাকে গায়ে মারার পরিকল্পনা করেছিল ওয়াসিম।’