জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের ওই উদযাপনে কিছুটা ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছিল। শনিবার তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডায় সেই উদযাপনের কারণ তুলে ধরেছেন মুমিনুল।
ওই টেস্টে মুমিনুলের করা ১৭৬ রান ও ১০৫ রানের ওপর ভর করেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুলকে করা তামিমের প্রশ্নটা ছিল- ‘মুমিনুল আমি তোর অনেকগুলো টেস্ট সেঞ্চুরি দেখছি। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি, তোর মধ্যে আবেগ খুব একটা কাজ করে না। আর যদি করেও থাকে, তাহলে সেটা তুই প্রকাশ করিস না। কিন্তু একটা ইনিংসের কথা আমার মনে আসছে। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংয়ের বিপক্ষে যেটা আমরা প্রথম টেস্ট খেলেছি, শ্রীলঙ্কার সাথে। যা ওরা আমাদের দেশে এসে খেলেছে। সাধারণত তুই খুব অল্প উদযাপন করিস। কিন্তু সেদিন আমি তোকে প্রথমবারের মতো দেখেছি, খুব রাগের মাথায় উদযাপন করতে। এর পেছনের কাহিনী কী?’
উত্তরে মুমিনুল জানান, ‘সত্যি বলতে কি, হাথুরুর ইচ্ছাতেই আমি বাংলাদেশের শততম টেস্টে বাদ পড়েছিলাম। এছাড়াও বাংলাদেশ যেবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জেতে, তখনকার আগে পরে মিলিয়ে আমার খারাপ সময় যাচ্ছিল।’ মূলত জেদের কারণেই ওমন উদযাপন করেছেন বলে জানান মুমিনুল, ‘আসলে সবার মতোই আমার ভেতরে তখন হালকা একটু জেদ কাজ করেছিল। বিষয়টা এমন না যে, আমি করে দেখিয়ে দিবো- এমন কিছু ভেবেছি। তবে আমি চাচ্ছিলাম যে, কিছু একটা করতে। আর আল্লাহর রহমত ছিল, ভাগ্যও ভালো ছিল। আর আমার মনে হয়েছিল, তেমন ইনিংস না খেলতে পারলে টেস্ট দলে আমার জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেতো। ভাগ্যিস সেই ইনিংসটা হয়েছে, আর তাই আমার ভেতর থেকে অটোমেটিক উদযাপনটি হয়ে গিয়েছিল।’
গত বছর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পান মুমিনুল। শনিবারের লাইভ আড্ডায় তামিম টেস্ট অধিনায়ককে স্মরণ করিয়ে দিলেন, দেশের ক্রিকেটের সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মুমিনুলের কাঁধেই, 'বাংলাদেশের ক্রিকেটের সব থেকে বড় দায়িত্ব মুমিনুল তোর কাঁধে। ক্রিকেটের সব থেকে বড় খেলা টেস্ট। সব থেকে বেশি সম্মানের বিষয় টেস্ট, আরও বেশি সম্মানের টেস্টের অধিনায়কত্ব করা। আমার মনে হয় তুই তোর লিডারশিপ দিয়ে আমাদের দেশকে অনেক ভালো কিছু এনে দিতে পারবি। আমার মনে হয় আমাদের জন্য টেস্টে তুই-ই সেরা অধিনায়ক।’
বলতে গেলে কঠিন পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন মুমিনুল। কেন এমন ক্রান্তিকালে টেস্টের অধিনায়কত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি যখনই অধিনায়কত্বের প্রস্তাব পাই, তখনই আমার মনে হয়েছিল অধিনায়কত্ব করার এটাই সব থেকে ভালো সময়। আমার দলে চার-পাঁচটা সিনিয়র খেলোয়াড় আছে। যারা ১০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে, সেই সঙ্গে আরও তিন-চারজন জুনিয়র আছে যারা দুর্দান্ত খেলোয়াড়। ভালো কিছু স্পিনার আছে, সঙ্গে ভালো কিছু পেসারও। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার এটাই সেরা সময়।'