নন্দিত মরিনহো, নিন্দিত মরিনহো!

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রিমিয়ার লিগের খেলায় নিউ ক্যাসেলের সঙ্গে হেরে গিয়েছিল চেলসি। হারার কারণ জিজ্ঞেস করলে বাছবিছার না করে 'ঠোঁটকাটা' মরিনহো বলে ফেলেন, 'কিভাবে জিতবো? মাঠের মধ্যখানে একদল গরু বেধে রাখা হয়েছিল। যার ফলে খেলাই পুরোপুরি থেমে গেছে। সেখানে তো গরু বাধা। কিভাবে খেলবো আমরা?'

প্রতিপক্ষকে গরু বলে সেবার ব্যাপক সমালোচিত হতে হয়েছে। তবে সফলদের এসব সমালোচনা কে মনে রাখে! ওই মৌসুমে যে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন তিনি!

বছরখানেক আগেও ছিলেন সুখের সপ্তম স্বর্গে। প্রিমিয়ার লিগ দিয়েছেন চেলসিকে,‘স্পেশ্যাল ওয়ান’-এর হীরক ঝলকানিতে তখন চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের। হানিমুন পিরিয়ড শেষ। সাত মাস আগে যিনি ছিলেন রাজা, সাত মাস পর তিনি ফকির। সাত মাস আগে তিনি ছিলেন ক্লাব ফুটবলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কোচ, সাত মাস পর ঘাড় ধাক্কায় বিদায়।

তিনটি লিগ খেতাব, এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড সব মিলিয়ে হোসে মরিনহো চেলসির ১১০ বছরের ইতিহাসে সফলতম ম্যানেজার। ক্লাবও অকপটে তা স্বীকার করেছে।

মরিনহো সেই বিরল কোচ, যিনি ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি ও পর্তুগালের ঘরোয়া লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে ফুটবল বিশ্ব হইচই ফেলে দেন মরিনহো। ২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাব্দি পর চেলসিকে জেতান প্রিমিয়ার লিগ। পরের মৌসুমে চেলসির হয়ে ফের প্রিমিয়ার লিগ জয়। ততদিনে দিনি চেলসির জন্য সাক্ষাৎ দেবদূত। কিন্তু সেখান থেকে পতন ঘটে ২০০৭-০৮ মৌসুমে। মৌসুমের মাঝপথেই বরখাস্ত হন তিনি।
এরপর দায়িত্ব নেন ইন্টার মিলানের। দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতান; সঙ্গে ঐতিহাসিক ট্রেবলও। সেখান থেকে রিয়ালে টানা তিন মৌসুম। কিন্তু সাফল্য নেই। ফের যোগ দিলেন চে‌‌‌লসিতে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ব্লুজদের ফের প্রিমিয়ার লিগ জেতান মরিনহো। পরের মৌসুমে উল্টোপথে চেলসি। মাথার ওপর রেলিগেশনের খড়গ। এরই মধ্যে ফের বরখাস্ত।

কিন্তু বাস্তব সত্য হলে বহুল নন্দিত স্পেশাল ওয়ান এখন বেশ নিন্দিতও। ইদানিং তার ভাবমূর্তিতে কালি পড়েছে ফুটবলারদের সঙ্গে গণ্ডগোলের জন্য। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে আসার সময় তার সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন রোনালদো, কাসিয়াস, রামোসের মতো ফুটবলাররা। চেলসিতেও তিনি হ্যাজার্ডের মতো অনেককে চটিয়ে রেখেছেন। অথচ একটা সময় তিনি হ্যাজার্ডকে বলেছিলেন, মেসি-রোনালদোর সঙ্গে তুলনীয়।

মরিনহো চেলসিতে শুধু হেরেই যাচ্ছিলেন তাই নয়, মাঠের বাইরে ঝামেলায় জড়িয়েছেন বারবার। চেলসির মহিলা ডাক্তারের সঙ্গেও ঝামেলা করেন তিনি। রেফারিদের প্রতি খোলাখুলি বিষোদ্গার করে স্টেডিয়াম ব্যান খেয়েছেন। সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডও দিতে হয়েছে জরিমানা হিসেবে। ওখানেই ব্যাপারটা শেষ হয়নি। ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে রেফারির প্রতি আবার তাঁর ‘সুমিষ্ট’ শব্দখরচ এবং আবার স্টেডিয়াম ব্যান ও মোটা আর্থিক জরিমানা। বাকি ছিল প্লেয়াররা। শেষটায় তাদের সঙ্গেও লেগে গেল। অভিযোগ করলেন শিষ্যরা বিশ্বাঘাতকতা করছে। তাদের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন।

মরিনহোকে ছাঁটাই করা ছাড়া ক্লাবের সামনে আর কোনও পথ ছিল না। বাইশ জন প্লেয়ারের বদলে এক জন কোচকে বরখাস্ত করাই বেশি সহজ! সেই সহজ কাজটাই সারলেন আব্রামোভিচ। শেষ হয়ে গেল চেলসিতে মরিনহোর দ্বিতীয় ইনিংস। এখন প্রশ্ন এই মরিনহোকে কে নেবে?

/এমআর/