পৃথিবীটা স্বাভাবিক থাকলে আগামী মাসেই শুরু হতো টোকিও অলিম্পিক, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ও জাপান সরকার গত মার্চ মাসে এটি পিছিয়ে দেয় ঠিক এক বছর। আর তখন থেকেই আয়োজকেরা খরচ কমিয়ে কাটছাঁট করে এটি আয়োজনের উপায় খুঁজছে।
লুসানে আইওসির নির্বাহী বোর্ডের সামনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থাপিত একটি প্রকল্প-পরিকল্পনায় টোকিও ২০২০ আয়োজকেরা এই গেমসের সাদামাটা আয়োজনের উপর জোর দিয়েছে, যদিও বিস্তারিত জানায়নি কীভাবে সেটি হবে।
‘গেমসটা জাঁকজমকের সঙ্গে আয়োজিত হবে না, হবে সাদামাটা। এটি সরলভাবে আয়োজনের জন্য সবকিছুর পর্যালোচনা প্রয়োজন এবং বুঝতে হবে সব আন্তর্জাতিক ফেডারেশনকে, জাতীয় অলিম্পিক কমিটিগুলোকে, সম্প্রচারসংস্থা ও অংশীদারদের। সব অংশীজনি এক হয়েই পারে সরল এবং সহজভাবে একটি গেমস আয়োজনের নিশ্চয়তা দিতে’- তোশিরো মুতোকে এভাবেই উদ্ধৃত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গেমসের খরচ কমাতে এবং সেটিকে সরলভাবে আয়োজনের স্বার্থে দুই শয়েরও বেশি ধারণা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলেছেন মুতো, তবে এই সমন্বয়গুলো কীভাবে হবে বা সময় কীভাবে নির্ধারিত হবে তা নিয়ে কিছু বলেননি।
গত মে মাসে আইওসি জানায়, গেমস পুননির্ধারণের জন্য ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। কিন্তু মুতো বলেছেন জাপান এখনও বিশ্লেষণ করে দেখছে কী পরিমান খরচ তারা বহন করতে পারবে।
টোকিও ২০২০ আয়োজক কমিটির সভাপতি ইয়োশিরো মোরি জানিয়েছেন, সামনে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও গেমস বাতিল করা নিয়ে আইওসির সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। ‘ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগতভাবে বদলে গেছে বিশ্ব, সুতরাং আমরা (আইওসির কাছে) ব্যাখ্যা করেছি কীভাবে আমরা আমাদের সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়েছি’-বলেছেন মোরি।
মোরি আরও বলেছেন, তারা গেমস বাতিল করার বিষয়টি নিয়ে কখনও আলোচনা করেননি, আর অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সেটা করা ঠিকও নয়।
আইওসি নির্বাহী বোর্ড আজ বুধবার টোকিও অলিম্পিক নিয়ে আলোচনার জন্য বসেছে সভায়।